হাতে গোনা আর মাত্র কয়েকটা দিন। আগামী ২৩ এপ্রিল বাংলার ১৭টি জেলার ১৫২টি কেন্দ্রে প্রথম দফার মহাযুদ্ধ। প্রার্থীদের ভোট প্রচার যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই ভোটারদের চোখ কপালে তুলল প্রার্থীদের দেওয়া হলফনামার তথ্য। ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ইলেকশন ওয়াচ’ এবং ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস’ (ADR)-এর যৌথ বিশ্লেষণে বেরিয়ে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। দেখা যাচ্ছে, জনগণের সেবক হওয়ার দৌড়ে এমন অনেক প্রার্থী রয়েছেন, যাঁরা নিজের নামটুকুও লিখতে জানেন না!
শিক্ষাগত যোগ্যতার ‘রিপোর্ট কার্ড’ (প্রথম দফা):
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফার প্রার্থীদের মধ্যে শিক্ষার গ্রাফটা অনেকটা এরকম:
নিরক্ষর: ১৪ জন প্রার্থী সম্পূর্ণ নিরক্ষর, যাঁরা টিপছাপ দেন।
কেবলমাত্র স্বাক্ষরজ্ঞান: ২৯ জন প্রার্থী কোনোমতে নিজের নাম সই করতে পারেন।
পঞ্চম শ্রেণি: ৩২ জন প্রার্থী মাত্র ক্লাস ফাইভ পাশ।
অষ্টম থেকে দশম: অষ্টম শ্রেণি পাশ ১৮০ জন এবং দশম শ্রেণি উত্তীর্ণ প্রার্থীর সংখ্যা ২৪৬।
উচ্চশিক্ষিত: স্নাতক প্রার্থীর সংখ্যা ৩৬১ জন, স্নাতকোত্তর (MA/M.Sc) ২২৫ জন এবং ডক্টরেট (Ph.D) করেছেন এমন প্রার্থীর সংখ্যা ২০।
একজন জনপ্রতিনিধির ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা উচিত কি না, তা নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। তবে এই পরিসংখ্যন দেখে অনেক ভোটারই মনে করছেন, নীতি নির্ধারণের জন্য শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।
বয়সের নিরিখে প্রার্থীরা: শিক্ষার পাশাপাশি অভিজ্ঞতারও বড় লড়াই দেখা যাচ্ছে এবারের নির্বাচনে:
তরুণ তুর্কি: ২৫-৩০ বছর বয়সী প্রার্থী ১০৩ জন।
অভিজ্ঞ নেতৃত্ব: ৪১-৫০ বছর বয়সী প্রার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, ৪৫৩ জন।
প্রবীণ লড়াকু: ৮০ বছরের ঊর্ধ্বে রয়েছেন ২ জন এবং ৭১-৮০ বছর বয়সী প্রার্থীর সংখ্যা ৪৯।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় সম্পত্তির হিসেবের পাশাপাশি এই শিক্ষাগত যোগ্যতার খতিয়ান এখন সাধারণ মানুষের চর্চার কেন্দ্রবিন্দু। আপনার এলাকার প্রার্থী কোন ক্যাটাগরিতে পড়ছেন, তা দেখে নিয়েই এবার বুথমুখী হওয়ার প্রস্তুতি শুরু করে দিন।





