বেলেঘাটার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল এন্টালি। পটারি রোডে প্রকাশ্য দিবালোকে এক প্রোমোটারকে কুপিয়ে ও গুলি করে খুনের অভিযোগ উঠল খাস কলকাতার বুকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের একবার সামনে চলে এল শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কাদা ছোড়াছুড়ি ও রক্তক্ষয়ী গোষ্ঠী কোন্দল। মৃত ব্যক্তির নাম তাপস নস্কর। পরিবারের অভিযোগ, ঝগড়া মেটানোর নাম করে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে অত্যন্ত নৃশংসভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত তাপস নস্করের অতীত রেকর্ড খুব একটা পরিষ্কার নয়। গুলি চালানো থেকে শুরু করে একাধিক সমাজবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে তিনি দীর্ঘদিন জেল খেটেছেন। ২০২৬-এর হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগেই তিনি এলাকায় ফিরে আসেন। তাপসের মেয়ে সায়নী নস্করের দাবি, গত চার বছর এলাকাছাড়া থাকার পর মাত্র দু’দিন আগেই তাঁর বাবা পটারি রোডের বাড়িতে ফিরেছিলেন। কিন্তু সেই প্রত্যাবর্তনই যে তাঁর শেষযাত্রা হবে, তা কল্পনাও করতে পারেনি পরিবার।
খুনের বিবরণ ও অভিযোগ:
স্থানীয় সূত্রে খবর, এলাকায় তৃণমূল কর্মী হিসেবে পরিচিত দীপক দাস ওরফে নেটুর সঙ্গে তাপসের দীর্ঘদিনের বিবাদ ছিল। প্রোমোটিং সংক্রান্ত বচসা এবং এলাকার দখলদারি নিয়ে এই বিবাদ চরমে পৌঁছায়। বুধবার সন্ধ্যায় নেটুর অনুগামীরা তাপসকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। তাদের আশ্বাস ছিল, পুরনো সমস্ত ঝগড়া মিটিয়ে নেওয়া হবে। কিন্তু পটারি রোডের একটি নির্জন গলিতে নিয়ে গিয়ে ধারাল অস্ত্র দিয়ে তাপসকে এলোপাথাড়ি কোপানো শুরু হয়। সায়নীর দাবি, কোপানোর পাশাপাশি তাঁর বাবার উপর গুলিও চালানো হয়েছে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ছায়া:
এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে সরাসরি তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের অভিযোগ তুলেছেন এলাকার বাসিন্দারা। অভিযুক্ত নেটু ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের ব্লক তৃণমূল প্রেসিডেন্ট মুকেশ সাউ এবং স্থানীয় কাউন্সিলার তথা মেয়র পারিষদ সদস্য স্বপন সমাদ্দারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে, মৃত তাপস নস্কর এলাকার নবনির্বাচিত তৃণমূল বিধায়ক সন্দীপন সাহার অনুগামী ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরেই স্বপন সমাদ্দার বনাম স্বর্ণকমল ও সন্দীপন সাহার মধ্যে প্রবল রাজনৈতিক দড়ি টানাটানি চলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বলি হলেন তাপস। প্রোমোটিং সিন্ডিকেট এবং এলাকার আধিপত্য বজায় রাখাই ছিল এই খুনের আসল কারণ।
এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত নেটু ও তার সঙ্গীরা পলাতক। পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও তৃণমূলের এই অন্তর্দ্বন্দ্ব শহরের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।





