দেশের অন্যতম নামী তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS)-এর নাসিক বিপিও ইউনিটে যৌন হেনস্থা ও ধর্মান্তরণ চেষ্টার অভিযোগে এবার সরাসরি কাঠগড়ায় সংস্থার এইচআর (HR) বিভাগ। পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে এক ভয়ঙ্কর সত্য— অভিযোগ জানাতে যাওয়া মহিলা কর্মীদের সুবিচার দেওয়ার বদলে মুখ বন্ধ রাখতে চাপ দিতেন খোদ এইচআর ম্যানেজার। সাফ জানিয়ে দিতেন, “কর্পোরেট দুনিয়ায় এমন ঘটনা তো ঘটেই থাকে!”
তদন্তে যা জানা গেল: নাসিক পুলিশের কমিশনার সন্দীপ কর্নিক জানিয়েছেন, এই পুরো চক্রটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হতো। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় ৯টি মামলা দায়ের হয়েছে এবং ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ এবং ১ জন মহিলা অপারেশনস ম্যানেজার রয়েছেন। আরও এক মহিলা অভিযুক্ত বর্তমানে পলাতক।
হেনস্থার ধরন ও ধর্মান্তরণ:
টার্গেট কিলিং: অভিযুক্তরা একটি দল বা ‘টিম’ হিসেবে কাজ করত। নারী কর্মীদের মানসিক ও যৌন হেনস্থার পাশাপাশি তাঁদের ওপর নির্দিষ্ট ধর্ম গ্রহণের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হতো।
পুরুষ কর্মীর অভিযোগ: কেবল মহিলারা নন, এক পুরুষ কর্মীও সহকর্মীদের বিরুদ্ধে ধর্মান্তরণের চেষ্টার অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করেছেন।
ক্ষমতার অপব্যবহার: অভিযুক্তরা উঁচু পদে থাকার সুবাদে অধস্তন কর্মীদের ওপর চরম মানসিক চাপ সৃষ্টি করত।
[Image: Police officers outside a corporate office building in Nashik]
HR-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন: ভুক্তভোগী মহিলাদের অভিযোগ, তাঁরা যখন অপারেশনস ও এইচআর ম্যানেজারদের কাছে বিষয়টি জানান, তখন তাঁদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। অভিযোগ করার বদলে অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন আধিকারিকরা। এর ফলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
তদন্তে কেন্দ্রীয় সংস্থা: ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে এই তদন্তে সামিল হয়েছে ATS ও NIA। সন্দেহ করা হচ্ছে, এই চক্রের পিছনে কোনো চরমপন্থী সংগঠনের হাত থাকতে পারে এবং বিদেশ থেকে অর্থ সাহায্য আসত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এক মহিলা ডেপুটি কমিশনারের নেতৃত্বে পুলিশ কর্মীরা ওই অফিসে গিয়ে ভুক্তভোগীদের কাউন্সেলিং করেন, যার পরেই আরও অনেকে অভিযোগ জানাতে সাহসী হন।
এক নজরে মামলার স্থিতি:
ধৃত: ৮ জন (৭ পুরুষ, ১ মহিলা)।
অভিযোগ: যৌন হেনস্থা, মানসিক নির্যাতন ও ধর্মান্তরণ।
সংস্থা: TCS (নাসিক বিপিও)।
তদন্তকারী: নাসিক পুলিশ, ATS এবং NIA।





