২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই তীব্র হচ্ছে ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ বনাম ‘বিরোধী দলনেতা’র লড়াই। আজ এক জনসভা থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। বারাবনি ও উত্তরবঙ্গের সভা থেকে শুভেন্দুর স্পষ্ট বার্তা— “যতবার যাবেন, ততবার পালটা জবাব পাবেন।”
কী নিয়ে এই চরম সতর্কবার্তা? সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শুভেন্দুর গড় বলে পরিচিত এলাকাগুলোতে সভা করে শাসক দলের শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা করেছিলেন। এরই পালটা হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী আজ আক্রমণাত্মক মেজাজে বলেন:
ব্যক্তিগত আক্রমণ ও হুঁশিয়ারি: শুভেন্দু সাফ জানান, অভিষেক যেখানেই সভা করবেন, তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিজেপি সেখানে তার চেয়ে বড় সভা করে জবাব দেবে।
ডায়মন্ড হারবার লক্ষ্য: বিরোধী দলনেতা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এবার নজর থাকবে অভিষেকের খাসতালুক ডায়মন্ড হারবারে। তিনি বলেন, “নিজের ঘর সামলান, এবার ওখানেই বড় চমক অপেক্ষা করছে।”
নাকা চেকিং ও প্রশাসন: পুলিশের অতি-সক্রিয়তা নিয়ে সরব হয়ে শুভেন্দু জানান, নাকা চেকিংয়ের ভয় দেখিয়ে বিজেপি নেতাদের আটকানো যাবে না।
তৃণমূলের পালটা জবাব: শুভেন্দুর এই সতর্কবার্তাকে আমল দিতে নারাজ জোড়া-ফুল শিবির। তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় জনজোয়ার দেখে বিজেপি ভয় পেয়েছে। তাই শুভেন্দু অধিকারী এখন কেবল সংবাদমাধ্যমে টিকে থাকার জন্য এই ধরনের অবাস্তব হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন।
বাংলার নজরে ‘চমকদার’ সভা: রাজনৈতিক মহলের নজর এখন আগামী কয়েক দিনের সভাগুলোর দিকে। একদিকে অভিষেকের জনসংযোগ যাত্রা, অন্যদিকে শুভেন্দুর ‘পালটা সভা’—দুই হেভিওয়েটের এই লড়াইয়ে সরগরম বঙ্গ রাজনীতি।
বিশেষ মন্তব্য: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কেবল বাগযুদ্ধ নয়, বরং ভোটারদের মনে প্রভাব ফেলার এক মনস্তাত্ত্বিক লড়াই। শুভেন্দুর এই ‘চরম সতর্কবার্তা’ বিজেপি কর্মীদের মধ্যে কতটা জোয়ার আনে, সেটাই এখন দেখার।
ভোটের আগে এই দাবার চালে শেষ হাসি কে হাসবেন? অভিষেক নাকি শুভেন্দু? আপডেট পেতে ফলো করুন আমাদের পোর্টাল।





