২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলার রাজনৈতিক আকাশ এখন মেঘাচ্ছন্ন। একদিকে যখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কড়া ‘নাকা চেকিং’ এবং বিজেপি নেতাদের গতিবিধি নিয়ে হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, ঠিক তখনই পাল্টা তোপ দাগলেন বিজেপির তারকা প্রচারক তথা মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তী। বারাবনির নির্বাচনী জনসভা থেকে তাঁর দেওয়া একটি মন্তব্য এখন রাজ্য রাজনীতির হট টপিক— “জনগণ চাইলে মুখ্যমন্ত্রী হতে আমার কোনো আপত্তি নেই!”
বিতর্কের সূত্রপাত: সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন বহিরাগত নেতা ও অর্থপ্রবাহ রুখতে রাজ্যের সীমানাগুলোতে কড়া নাকা চেকিং চালাতে। এই প্রসঙ্গেই আজ মিঠুন চক্রবর্তীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই মেজাজ হারান এবং আক্রমণাত্মক জবাব দেন।
কী বললেন মিঠুন চক্রবর্তী?
নাকা চেকিং নিয়ে জবাব: মহাগুরু বলেন, “নাকা চেকিং করে আমাদের আটকানো যাবে না। মানুষের মনে যে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে, তা কোনো পুলিশি ব্যারিকেড দিয়ে রোখা সম্ভব নয়।”
মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে জল্পনা: যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয় তিনি কি আগামীর মুখ্যমন্ত্রী মুখ? মিঠুন স্পষ্ট জানান, দলের সিদ্ধান্তই শেষ কথা, তবে মানুষের প্রয়োজনে এবং বাংলার স্বার্থে তিনি যে কোনো বড় দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী হতেও তাঁর কোনো আপত্তি নেই।
তৃণমূলকে তোপ: তিনি সাফ জানান, এবারের লড়াই ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের’। বারাবনি থেকে তিনি তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, “মারব এখানে, লাশ পড়বে শ্মশানে”—এই সংলাপ দিয়ে যেমন রাজনীতিতে এসেছিলেন, কাজ দিয়েও সেভাবেই মানুষের মন জিতবেন।
শাসক দলের প্রতিক্রিয়া: মিঠুনের এই মন্তব্যে তীব্র কটাক্ষ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের মুখপাত্রদের দাবি, “মহাগুরু এখন শুধুই স্ক্রিপ্টেড ডায়লগ বলছেন। বাংলার মানুষ ওঁর রূপালি পর্দার অভিনয় আর বাস্তবের রাজনীতির পার্থক্য বোঝেন।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ: বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মিঠুন চক্রবর্তীর এই ‘মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ইচ্ছা’ প্রকাশ করা আদতে বিজেপি কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার এক স্ট্র্যাটেজি। বিশেষ করে হিন্দিভাষী ও আদি বিজেপি ভোটারদের কাছে মহাগুরুর এই দাপুটে ইমেজ বড় ভোট ব্যাংক টানতে পারে।
ভোটের লড়াইয়ে মমতা বনাম মিঠুন—এই দ্বৈরথ এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার।





