অবশেষে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ওবিসি (OBC) সংরক্ষণ নিয়ে বড়সড় এবং ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। আগের সরকারের আমলের ওবিসি তালিকা এবং সংরক্ষণের হারে ব্যাপক কাটছাঁট করল বর্তমান রাজ্য সরকার। আগের আমলের ১৪০টি ওবিসি সম্প্রদায়ের সংখ্যা এক ধাক্কায় কমিয়ে করা হলো ৬৬। একই সাথে ওবিসিদের জন্য নির্ধারিত ১৭ শতাংশ সংরক্ষণ বাতিল করে তা নামিয়ে আনা হয়েছে ৭ শতাংশে।
মঙ্গলবার রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, কয়েক দিন আগেই পূর্বতন সরকারের ওবিসি সংক্রান্ত মামলা সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্রত্যাহার করার আবেদন জানিয়েছিল বর্তমান সরকার। তারপরই আজ এই বড় পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
হাইকোর্টের নির্দেশিকা মেনেই সিদ্ধান্ত: বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের ২০২৪ সালের ২২ মে-র যে ঐতিহাসিক রায় ছিল, তার নিরিখেই এই নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করা হলো। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২০১০ সালের আগে রাজ্যের ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকা ৬৬টি বিভাগকে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। কিন্তু ২০১০ সালের পর থেকে পূর্বতন সরকারের আমলে যুক্ত হওয়া বাকি সম্প্রদায়গুলি ওবিসি তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
সংরক্ষণের হারে বড় ধাক্কা: চাকরি ও শিক্ষার ক্ষেত্রে ওবিসি-দের সংরক্ষণ নিয়েও বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুভেন্দু সরকার। আগে ওবিসিদের ‘ক’ এবং ‘খ’ বিভাগের জন্য মোট ১৭ শতাংশ সংরক্ষণের ব্যবস্থা ছিল। নতুন বিজ্ঞপ্তিতে সেই ১৭ শতাংশ সংরক্ষণ সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে। এখন থেকে পশ্চিমবঙ্গে ওবিসি সম্প্রদায় সামগ্রিকভাবে মোট ৭ শতাংশ সংরক্ষণ পাবে। অর্থাৎ, সরকারি চাকরিতে রাজ্যের সংশোধিত তালিকার ৬৬টি সম্প্রদায় এই ৭ শতাংশ সংরক্ষণের সুবিধা ভোগ করতে পারবে।
এছাড়াও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তপশিলি জাতি (SC) থেকে যারা খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছেন এবং তাঁদের বংশধরদেরও এই সংশোধিত ওবিসি তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কারা কারা ওবিসি?
- ১। কাপালি
- ২। বৈশ্য কাপালি
- ৩। কুর্মি
- ৪। সূত্রধর
- ৫। কর্মকার
- ৬। কুম্ভকার
- ৭। স্বর্ণকার
- ৮। তেলি, কলু
- ৯। নাপিত
- ১০। যোগী, নাথ
- ১১। গোয়ালা, গোপে (পল্লব গোপে, বল্লভ গোপে, যাদব গোপে, গোপে, আহির এবং যাদব অন্তর্ভুক্ত)
- ১২। ময়রা (হালুয়াই), মোদক (হালুয়াই)
- ১৩। বারুজীবী
- ১৪। সৎচাষী
- ১৫। মালাকার
- ১৬। জোলা (আনসারি-মোমিন)
- ১৭। কাঁসারি
- ১৮। তাঁতি, তন্তুবায়
- ১৯। ধানুক
- ২০। শঙ্খকার
- ২১। কেওড়ি/কৈরি
- ২২। রাজু
- ২৩। নাগর
- ২৪। করণী
- ২৫। সারাক
- ২৬। তাম্বুলি/তামালি
- ২৭। কোস্তা/কোষ্ঠা
- ২৮। রনিওয়ার/রাউনিয়ার
- ২৯। খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত তফসিলি জাতি ও তাঁদের উত্তরসূরি
- ৩০। লাখেরা/লাহেরা
- ৩১। ফকির, সাঁই
- ৩২। কাহার
- ৩৩। বেতকার (বেন্টকার)
- ৩৪। চিত্রকর
- ৩৫। ভুজেল
- ৩৬। নেওয়ার
- ৩৭। মাঙ্গার
- ৩৮। নেমবাং
- ৩৯। সামপাং
- ৪০। বুংছেং
- ৪১। থামি
- ৪২। জোগি
- ৪৩। ধিমাল
- ৪৪। হাওয়ারি, ধোবি (তফসিলি জাতির তালিকাভুক্তদের বাদে)
- ৪৫। ভর
- ৪৬। খণ্ডাইত
- ৪৭। গঙ্গোট
- ৪৮। তুরহা
- ৪৯। ধুনিয়া
- ৫০। পাটিদার
- ৫১। কসাই
- ৫২। হেলে / হালিয়া / চাষী-কৈবর্ত, দাস কৈবর্ত
- ৫৩। বাঁশি বর্মন
- ৫৪। নস্য শেখ
- ৫৫। পাহাড়িয়া মুসলিম
- ৫৬। খেন (অ-বণিক শ্রেণি)
- ৫৭। সুকলি
- ৫৮। সুনুয়ার
- ৫৯। ভারভুজা
- ৬০। দেওয়ান
- ৬১। রাই (চামলিং-সহ)
- ৬২। রায়ীন (কুঞ্জরা)
- ৬৩। শেরশাবাদিয়া
- ৬৪। দেবাঙ্গা
- ৬৫। হাজ্জাম (মুসলিম)
- ৬৬। চৌদুলি (মুসলিম)
সোমবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ওবিসি তালিকা সংশোধন এবং উপ-শ্রেণিবিন্যাস বাতিলের যে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তা কার্যকর করল রাজ্য সরকার।





