দীপু দাস হত্যাকাণ্ডে মধ্যরাতে ডিবির অ্যাকশন! আরও ৩ খুনি গ্রেপ্তার হতেই কেঁপে উঠল ভালুকা

ময়মনসিংহের ভালুকায় চাঞ্চল্যকর পোশাকশ্রমিক দীপু চন্দ্র দাস (২৭) হত্যাকাণ্ড নিয়ে ফের একবার বড়সড় অ্যাকশনে নামল জেলা পুলিশ। নিদারুণ এই পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার তদন্তে নেমে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এক সফল অভিযানে আরও ৩ জন এজাহারনামীয় আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ৩ জন ধরা পড়ার ফলে লোমহর্ষক এই হত্যা মামলায় পুলিশ ও র্যাবের হাতে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৯ জনে।
ডিবির এই ধারাবাহিক সাঁড়াশি অভিযানের পর থেকে এলাকার বাকি অভিযুক্তদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
কীভাবে চলল ডিবির এই বিশেষ অপারেশন?
জেলা পুলিশ সূত্রে খবর, সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ এবং অত্যাধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার রাতে ভিড়ের মধ্যে থাকা মূল উস্কানিদাতা ও হামলাকারীদের চিহ্নিত করা হয়। এরপরই ডিবির একটি চৌকস দল ভালুকা ও তার আশেপাশের এলাকায় গোপন অভিযান চালিয়ে এই ৩ আসামিকে পাকড়াও করে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ধৃতরা ঘটনার দিন পোশাক কারখানার ভেতরে উস্কানি ছড়ানো এবং দীপুকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে বের করে আনার কাজে সরাসরি যুক্ত ছিল।
ঘটনার ফ্ল্যাশব্যাক: মিথ্যা অপবাদ ও পৈশাচিক বর্বরতা
গত বছর ভালুকার স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকার ‘পায়োনিয়ার নিটওয়্যার’ কারখানায় একদল উগ্র জনতা ধর্ম অবমাননার মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে দীপু চন্দ্র দাসের ওপর চড়াও হয়। পরবর্তীতে র্যাব ও পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, দীপুর বিরুদ্ধে আনা ধর্ম অবমাননার অভিযোগটির কোনো সত্যতাই ছিল না, এটি ছিল স্রেফ গুজব।
গাছে ঝুলিয়ে আগুন: ঘটনার দিন উন্মত্ত জনতা দীপুকে নির্মমভাবে পিটিয়ে আধমরা করে। এরপর প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভাজকের একটি গাছে ঝুলিয়ে তাঁর মরদেহে নির্মমভাবে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
মামলা দায়ের: এই পৈশাচিক ঘটনার পর নিহতের ভাই অপু চন্দ্র দাস বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করে ভালুকা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ময়মনসিংহ জেলা ডিবি পুলিশের বক্তব্য: “দীপু দাস হত্যাকাণ্ড একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও বর্বরোচিত ঘটনা। সিসিটিভি ফুটেজে যাদেরই হিংসা ছড়াতে বা মারধর করতে দেখা গেছে, তাদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না। বাকি পলাতক আসামিদের ধরতেও আমাদের তল্লাশি অভিযান ২৪ ঘণ্টা জারি রয়েছে।”
ইতিমধ্যেই ধৃতদের আদালতে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত কঠোরতম শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। দীপু দাস হত্যাকাণ্ডের এই সাম্প্রতিক মোড় এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আপনার কী মতামত? কমেন্ট বক্সে আমাদের জানান।