কয়েক সপ্তাহের বিধ্বংসী লড়াইয়ের পরেও কি ফুরিয়ে গিয়েছে ইরানের সামরিক শক্তি? মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে— একেবারেই নয়! বরং উল্টো চিত্র সামনে এসেছে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের আক্রমণকারী ড্রোনের প্রায় ৪০ শতাংশ এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক বা লঞ্চারের ৬০ শতাংশ এখনও সম্পূর্ণ অক্ষত ও কার্যকর।
লুকানো অস্ত্রের রহস্য: সুড়ঙ্গ ও বাঙ্কার
মার্কিন গোয়েন্দাদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে ইরানের পুনরুদ্ধারের ক্ষমতা। কীভাবে তারা এই শক্তি ধরে রাখল?
বাঙ্কারে সুরক্ষা: যুদ্ধের শুরুতে ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার একটি বড় অংশ গোপন সুড়ঙ্গ এবং মাটির নিচের বাঙ্কারে লুকিয়ে ফেলেছিল।
উদ্ধার অভিযান: যুদ্ধবিরতির পর দেশটি বাঙ্কার থেকে প্রায় ১০০টি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা উদ্ধার করেছে। ফলে তাদের সক্রিয় লঞ্চারের সংখ্যা এখন আগের তুলনায় ৬০ শতাংশে পৌঁছেছে।
ড্রোনের ভবিষ্যৎ: মেরামত ও পুনরুদ্ধারের কাজ শেষ হলে ইরান তার আগের ড্রোন মজুদের প্রায় ৭০ শতাংশই ফিরে পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালী: ইরানের তুরুপের তাস
রাশিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ জানিয়েছেন, বর্তমান যুদ্ধবিরতি কতদিন স্থায়ী হবে তা অনিশ্চিত। তবে ইরান তার শক্তি প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়েছে। তাঁর মতে, হরমুজ প্রণালী ইরানের সবচেয়ে বড় কৌশলগত সম্পদ। সমুদ্রপথ অবরুদ্ধ করে বিশ্ব বাণিজ্য ব্যাহত করার ক্ষমতা তেহরানের হাতে এখনও মজুত।
খামেনির মৃত্যু ও বদলে যাওয়া কৌশল
গত বছর পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পরেও সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি চরম সতর্কতা অবলম্বন করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধের শুরুতেই তাঁর মৃত্যুর পর পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। আগের মতো কেবল স্থলমাইন পাতার বদলে, ইরান এখন ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে নৌযানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার আধুনিক কৌশলে হাঁটছে।





