ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের দাবানল এবার বিশ্ব অর্থনীতির ভিত নাড়িয়ে দিচ্ছে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বিশ্ব বাজারে তেলের লেনদেনে ‘ডলার’-এর যে একাধিপত্য ছিল, তা এবার বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে। যুদ্ধের জেরে সৃষ্ট নজিরবিহীন সঙ্কটের মাঝে এবার সরাসরি আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি দিল তাদের দীর্ঘদিনের বন্ধু দেশ সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE)। ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকারকে তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ‘ডলার সাপোর্ট’ না দিলে তারা তেলের লেনদেনের জন্য চিনা মুদ্রা ‘ইউয়ান’ ব্যবহার শুরু করবে।
সঙ্কটে পেট্রো-ডলার ও ইউএই-র অবস্থান:
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কের গভর্নর খালেদ মহম্মদ বালামা মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন। সেখানে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, যুদ্ধের কারণে ডলারে লেনদেন করা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে। যদি আমেরিকা জরুরি ভিত্তিতে ডলারের সহজলভ্যতা নিশ্চিত না করে, তবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি বিকল্প হিসেবে চিনা মুদ্রায় তেল কেনাবেচা শুরু করতে বাধ্য হবে। ১৯৭০-এর দশক থেকে চলে আসা ‘পেট্রো-ডলার’ ব্যবস্থার ইতিহাসে এটি একটি বৈপ্লবিক ও উদ্বেগজনক মোড়।
বিপুল ক্ষতির মুখে আমিরশাহি:
যুদ্ধের আঁচ সরাসরি এসে পড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির জ্বালানি ক্ষেত্রেও। জানা গিয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে তাদের প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আটকে আছে। শুধু তাই নয়, সংঘাতের জেরে আমিরশাহির তেল ও গ্যাস পরিকাঠামোও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই বিপুল আর্থিক বিপর্যয় সামাল দিতে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে তারা।
বিশ্ব বাজারে বদলানো সমীকরণ:
আমেরিকা ও সৌদি আরবের পুরনো চুক্তি অনুযায়ী, তেলের বিশ্ব বাজারে ডলারই ছিল একমাত্র স্বীকৃত মুদ্রা। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধ সেই সমীকরণ বদলে দিচ্ছে। সম্প্রতি ভারতের একটি বেসরকারি সংস্থাও চিনা ইউয়ানে ইরানের তেল কিনেছে, যা ডলারের আধিপত্য কমার স্পষ্ট ইঙ্গিত। এই পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো প্রভাবশালী দেশ যদি ডলার ত্যাগ করে চিনা মুদ্রার হাত ধরে, তবে তা বিশ্ব অর্থনীতিতে আমেরিকার প্রভাবকে খর্ব করবে। যুদ্ধের ময়দান ছাপিয়ে এই ‘কারেন্সি ওয়ার’ বা মুদ্রার লড়াই এখন ট্রাম্প সরকারের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।





