লোকসভা নির্বাচনের রণক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে এবার তৃণমূলের নির্বাচনী স্ট্র্যাটেজিস্ট সংস্থা ‘আই-প্যাক’ (I-PAC) এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একযোগে আক্রমণ শানালেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। খড়গপুর সদর বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচনী প্রচারের ফাঁকে আই-প্যাকের ‘কর্মচ্যুত’ কর্মী প্রীতির প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূলের কড়া সমালোচনা করেন মেদিনীপুরের এই দাপুটে নেতা। দিলীপের দাবি, তৃণমূলের আমলে নারী ও যুব সমাজ কেবল রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে।
আই-প্যাককে ‘দুর্নীতির প্রচারক’ তকমা:
খড়গপুর সদরের এক জনসভায় দিলীপ ঘোষ সাফ বলেন, “বাংলায় নির্বাচন এলেই তৃণমূলের কর্মী, নারী ও যুবকদের কথা মনে পড়ে। বাকি সময় তাঁদের চরম অবহেলা ও হয়রানি করা হয়।” আই-প্যাকের তীব্র বিরোধিতা করে তিনি বলেন, “আই-প্যাকের মতো সংস্থার এখানে থাকা উচিত নয়। এরা রাজনীতিতে কেবল দুর্নীতি বাড়িয়েছে। আই-প্যাক এখন দুর্নীতি প্রচার করে টাকা কামানোর একটি ব্যবসায়িক মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে সরকারি কর্মচারীরাও প্রতিনিয়ত হেনস্থার শিকার হচ্ছেন।
খড়গপুরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গুরুত্বপূর্ণ এই রেল ও শিল্প শহরে দিলীপ ঘোষ এবার পদ্ম শিবিরের প্রধান মুখ। নিজের খাসতালুকে দাঁড়িয়ে তিনি তৃণমূলের শাসনব্যবস্থা, কর্মী নিগ্রহ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন। দিলীপের দাবি, তৃণমূল নেতৃত্ব কেবল ভোটের জন্য নারী ও যুবকদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে, কিন্তু ক্ষমতায় থাকাকালীন তাঁদের কোনো যত্ন নেয় না। আই-প্যাকের হস্তক্ষেপের ফলে দলের পুরনো কর্মীরাও গুরুত্ব হারাচ্ছেন বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
বিজেপির প্রচার কৌশল ও তৃণমূলের নীরবতা:
খড়গপুর সদরে দিলীপ ঘোষের এই আক্রমণাত্মক মেজাজ বিজেপি কর্মীদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা জুগিয়েছে। দুর্নীতি ও অপশাসনকে হাতিয়ার করে ভোটারদের কাছে পরিবর্তনের ডাক দিচ্ছেন তিনি। দিলীপের মতো জনপ্রিয় নেতার উপস্থিতি স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে দলের প্রভাব আরও বাড়াবে বলে আশাবাদী গেরুয়া শিবির। অন্যদিকে, দিলীপ ঘোষের এই তোপ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পশ্চিম মেদিনীপুরে ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, লড়াই যে আরও ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক আক্রমণের স্তরে পৌঁছাবে, দিলীপের আজকের সভা তারই ইঙ্গিত দিল।





