টানা হারের অন্ধকার কাটিয়ে অবশেষে জয়ের সরণিতে কলকাতা নাইট রাইডার্স। রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে এই জয় শুধু স্বস্তি নয়, নাইট শিবিরে নিয়ে এসেছে বাঁধভাঙা আবেগ। মাঠের লড়াই যতটা কঠিন ছিল, ড্রেসিংরুমের পরিবেশ ছিল তার চেয়েও বেশি সংবেদনশীল। জয়ের পর ড্রেসিংরুমে ফিরে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি দলের বেশ কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটার। কেকেআর-এর তারকা স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী খোলসা করলেন সেই অজানা কাহিনী।
আইপিএল জয়ের বছরেও এমন আবেগ দেখা যায়নি!
বরুণ চক্রবর্তীর মতে, এই জয়টি দলের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল তা ড্রেসিংরুমের পরিবেশ না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। তিনি বলেন:
“এই জয় আমাদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সত্যি কথা বলতে, আজ ড্রেসিংরুমে আমি অনেকের চোখে জল দেখেছি। ২০২৪ সালে যখন আমরা আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম, তখনও এমন দৃশ্য দেখিনি।”
সমালোচকদের কড়া জবাব ও পিচ বিতর্ক
টানা হারের সময় ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত আক্রমণ ও কড়া সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল। বরুণ জানান, বাইরের বহু মানুষ ভিত্তিহীন মন্তব্য করছিলেন, যা দলের মনোবল ভাঙার চেষ্টা ছিল। তবে অভিষেক নায়ারের নেতৃত্বাধীন কোচিং স্টাফ ক্রিকেটারদের আগলে রেখেছিলেন।
নিজের ফর্ম নিয়ে বরুণের সাফ কথা, পিচ সহায়ক না থাকলে কোনো স্পিনারের পক্ষেই জাদু দেখানো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “আমি কোনো ভুল করছিলাম না, সমস্যা ছিল পিচে। আগের ম্যাচগুলোতে স্পিনারদের জন্য কিছুই ছিল না। আজ পিচে টার্ন ছিল বলেই আমি নিজের জাত চেনাতে পেরেছি।” ৪ ওভারে মাত্র ১৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন এই মিস্ট্রি স্পিনার।
ত্রাতা সেই রিঙ্কু সিং
ম্যাচের এক পর্যায়ে ৮৫ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল কেকেআর। সেখান থেকে ম্যাচ জেতান সেই চেনা ফিনিশার রিঙ্কু সিং। ফর্মে থাকা অনুকূল রায়কে সঙ্গে নিয়ে অপরাজিত ৭৬ রানের পার্টনারশিপ গড়েন রিঙ্কু। তাঁর লড়াকু অর্ধশতরানই নাইটদের অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসে।
এই জয়ের ফলে প্লে-অফের লড়াইয়ে টিকে থাকার অক্সিজেন পেল কলকাতা। মাঠের বাইরে হাজারো সমালোচনা থাকলেও ড্রেসিংরুমের এই একতা ও চোখের জলই বলে দিচ্ছে, নাইটরা সহজে লড়াই ছাড়বে না।





