“আমি রাজনৈতিক কর্মী নই!” রত্না দেবনাথের জয় আসতেই কেন ভোল বদলালেন গঙ্গারাম-খ্যাত সোহিনী?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন কেবল সাধারণ মানুষের জীবনেই নয়, বিনোদন জগতের তারকাদের অন্দরেও প্রবল কম্পন সৃষ্টি করেছে। ২০০-র বেশি আসন নিয়ে বিজেপি সরকার গঠন করতেই টলিউডের সমীকরণ যেন রাতারাতি বদলে গিয়েছে। তবে এই পরিবর্তনের আবহে কিছু অভিনেতা-অভিনেত্রীকে নেটিজেনদের তীব্র রোষের মুখে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে ‘পাল্টিবাজ’ তকমা জুটেছে জনপ্রিয় অভিনেত্রী সোহিনী গুহ রায়ের কপালে। নির্বাচনের আগে তৃণমূলের হয়ে প্রচার করা সোহিনী কেন বিজেপির প্রার্থী তথা আরজি কর কাণ্ডের অভয়ার মা রত্না দেবনাথের জয়ে উচ্ছ্বসিত, তা নিয়ে এখন উত্তাল নেটপাড়া।

তৃণমূলের প্রচার বনাম রত্না দেবনাথের জয়:
‘গঙ্গারাম’ খ্যাত অভিনেত্রী সোহিনী গুহ রায় এই নির্বাচনের আগে দাসপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে কোমর বেঁধে প্রচার চালিয়েছিলেন। কিন্তু ৪ মে ফলাফল ঘোষণা হতেই দেখা যায়, পানিহাটি কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়েছেন আরজি কর কাণ্ডের অভয়ার মা রত্না দেবনাথ। এই জয়ের পর সোহিনী নিজের ফেসবুকের দেওয়ালে অভয়া ও তাঁর মায়ের একটি আবেগঘন ছবি পোস্ট করে লেখেন, “কিছু জয় ব্যক্তিগত মনে হয়। আর এটা তার মধ্যে একটা। কিছু জয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে। এটা মানুষ, বিশ্বাস, শক্তির বিষয়ে। খুব খুশি অভয়ার মাকে জিততে দেখে।”

নেটিজেনদের তোপ ও সোহিনীর সাফাই:
সোহিনীর এই পোস্টের পরই নেটিজেনরা তাঁকে ‘সুবিধাবাদী’ ও ‘পাল্টিবাজ’ বলে আক্রমণ শুরু করেন। তাঁদের প্রশ্ন, যে দলের হয়ে প্রচার করলেন, সেই দলের প্রার্থীর হারের পর বিরোধী পক্ষের জয়ে এত আনন্দ কেন? এই বিতর্ক প্রসঙ্গে সোহিনী সংবাদমাধ্যম আজকাল ডট ইনের কাছে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আমি এ বছর তৃণমূলের হয়ে প্রচার করেছি। মানুষ আমায় পাল্টিবাজ লিখছে, যা অত্যন্ত খারাপ। তবে তাঁদের জানাতে চাই, আমি তৃণমূলের কোনও রেজিস্টার্ড রাজনৈতিক কর্মী নই। আমি একজন শিল্পী। মানুষ আমাদের চেনে, ভালোবাসে বলেই দল প্রচারের জন্য আমাদের নিয়ে যায়। আমি কেবল শিল্পী হিসেবে সেখানে গিয়েছিলাম।”

রাজনীতির ঊর্ধ্বে বিচার:
বিজেপি প্রার্থীর জয় উদযাপন প্রসঙ্গে সোহিনীর সাফাই, সব কিছুর মধ্যে রাজনীতি টেনে আনা ঠিক নয়। রত্না দেবনাথের জয়কে তিনি বিচারের জয় হিসেবে দেখছেন। তাঁর কথায়, “ওঁকে সমর্থন করাটা সব কিছুর ঊর্ধ্বে। আমরা জাস্টিস চাই, আগেও চেয়েছি এখনও চাই। অনেকে লিখেছেন উনি জিতলেই বিচার পাওয়া যাবে না। আমি মানছি বিচার দীর্ঘ প্রক্রিয়া, কিন্তু বন্ধ হয়ে যাওয়া কেস যাতে নতুন সরকার আবার খোলে এবং পুনরায় খতিয়ে দেখে, সেটাই আমরা সবাই চাই। এই চাওয়ার মধ্যে কোনও রাজনৈতিক রং নেই।”

সোহিনী আরও যোগ করেন যে, নতুন সরকারের কাছে বাংলার মানুষের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে। তিনি আশাবাদী যে রত্না দেবনাথের মতো মহিলারা বিধানসভায় গেলে বাংলার বাকি মেয়েরাও আরও নিরাপদ থাকবেন। রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক না কেন, বাংলার উন্নতির জন্য নতুন সরকারের থেকে ইতিবাচক কাজের প্রত্যাশা রাখছেন এই অভিনেত্রী। তবে তাঁর এই ‘অরাজনৈতিক শিল্পী’ পরিচয় নেটিজেনরা কতটা গ্রহণ করবেন, তা নিয়ে চর্চা চলতেই থাকছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy