২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের মুখে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়, ঠিক তখনই এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল কলকাতা হাইকোর্ট। গণতান্ত্রিক অধিকার অর্থাৎ ভোট দেওয়ার অধিকার সুনিশ্চিত করতে এবার আদালতের দ্বারস্থ হলেন খোদ এক আইনজীবী। ট্রাইব্যুনালে আবেদন জানিয়েও সুরাহা না মেলায় শেষ পর্যন্ত আইনের দরজায় কড়া নাড়লেন তিনি।
আদালতের দ্বারস্থ কেন? সংশ্লিষ্ট ওই আইনজীবী ভোটার তালিকায় নিজের নাম না থাকার বিষয়ে আগেই নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও তাঁর নামের বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়নি। বর্তমানে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া প্রায় শেষের পথে, তাই সময় নষ্ট না করে সরাসরি হাইকোর্টে আবেদন জানালেন তিনি। তাঁর দাবি, একজন ভারতীয় নাগরিক হিসেবে তাঁকে অবশ্যই ভোট দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনী বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) নিয়ে রাজ্যে ব্যাপক বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বহু মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, ট্রাইব্যুনাল যাদের নাম বৈধ বলে ঘোষণা করবে, তারাই কেবল ভোট দিতে পারবেন। কিন্তু ট্রাইব্যুনালের কাজের ধীর গতির কারণে অনেক যোগ্য ভোটারই সংশয়ে রয়েছেন।
আইনি লড়াইয়ের গুরুত্ব: এই আইনজীবীর মামলাটি এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, যদি হাইকোর্ট তাঁকে ভোট দেওয়ার বিশেষ অনুমতি দেয়, তবে একই সমস্যায় থাকা লক্ষ লক্ষ সাধারণ ভোটারের সামনেও আইনি লড়াইয়ের রাস্তা খুলে যাবে।
আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হাইকোর্টের রায়ের ওপরই এখন ঝুলে রয়েছে ওই আইনজীবীর গণতান্ত্রিক অধিকার।





