অনেক সময় হঠাৎ করে বড় অঙ্কের টাকার প্রয়োজন পড়ে। চিকিৎসা, পড়াশোনা কিংবা বাড়ির জরুরি কাজের জন্য পার্সোনাল লোন বা ব্যক্তিগত ঋণই হয় আমাদের প্রথম ভরসা। আপনি কি ভাবছেন ১ লক্ষ টাকা লোন নেবেন? তাও আবার মাত্র ১ বছরের মেয়াদে? তাহলে ঋণ নেওয়ার আগে আপনার মাসিক কিস্তি বা EMI কত হতে পারে, তার একটি স্বচ্ছ ধারণা থাকা জরুরি।
১ লক্ষ টাকার লোনে EMI কত হবে?
পার্সোনাল লোনের ক্ষেত্রে সুদের হার ব্যাঙ্কভেদে আলাদা হয়। সাধারণত ১০% থেকে ১৫% বা তার বেশিও হতে পারে। আমরা যদি একটি গড় সুদের হারের ওপর ভিত্তি করে হিসেব করি, তবে ছবিটা এমন দাঁড়াবে:
| সুদের হার (বার্ষিক) | ঋণের মেয়াদ | মাসিক কিস্তি (EMI) | মোট সুদ (১ বছরে) |
| ১০.৫০% | ১২ মাস | ₹৮,৮১৫ | ₹৫,৭৮০ |
| ১২.০০% | ১২ মাস | ₹৮,৮৮৫ | ₹৬,৬২০ |
| ১৪.০০% | ১২ মাস | ₹৮,৯৭৯ | ₹৭,৭৪৮ |
নোট: আপনার ক্রেডিট স্কোর (CIBIL Score) ভালো থাকলে আপনি কম সুদে লোন পেতে পারেন। এর সঙ্গে সাধারণত ১% থেকে ২% প্রসেসিং ফি যুক্ত হয়।
লোন নেওয়ার আগে এই ৩টি বিষয় মাথায় রাখুন:
প্রসেসিং ফি: শুধু সুদের হার নয়, লোন নেওয়ার সময় ব্যাঙ্ক কত টাকা প্রসেসিং ফি কাটছে তা অবশ্যই দেখে নিন। অনেক সময় কম সুদের লোনে লুকানো চার্জ বেশি থাকে।
ফোরক্লোজার চার্জ: আপনি যদি ১ বছরের আগেই লোন শোধ করে দিতে চান, তবে ব্যাঙ্ক কোনো বাড়তি জরিমানা (Penalty) নেবে কি না, তা আগেভাগেই জেনে নিন।
ক্রেডিট স্কোর: লোন অ্যাপ্লাই করার আগে আপনার ক্রেডিট স্কোর চেক করুন। স্কোর ৭৫০-এর উপরে থাকলে ব্যাঙ্কের সঙ্গে দরাদরি করে সুদের হার কমিয়ে নেওয়া সম্ভব।
অনলাইন ক্যালকুলেটরের সুবিধা
বর্তমানে প্রায় সব ব্যাঙ্কের ওয়েবসাইটেই ‘EMI Calculator’ থাকে। সেখানে আপনার পছন্দমতো সুদের হার বসিয়ে আপনি নিজেই দেখে নিতে পারেন মাসে আপনার ওপর কত টাকার চাপ পড়বে। মনে রাখবেন, মেয়াদী ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে মাসিক কিস্তি যেন আপনার উপার্জনের ৩০-৪০ শতাংশের বেশি না হয়।
পরিকল্পিত ঋণ আপনার বিপদ কাটাতে সাহায্য করে, কিন্তু না বুঝে লোন নিলে তা ঋণের জালে পরিণত হতে পারে। তাই নেওয়ার আগে যাচাই করে নিন সব তথ্য।





