লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ সংশোধনী বিল খারিজ হওয়া নিয়ে এবার রণংদেহী মেজাজে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। প্রয়োজনীয় সমর্থন না মেলায় বিলটি আটকে যাওয়ার ঘটনাকে বিরোধীদের ‘ঐতিহাসিক ভুল’ বলে দেগে দিলেন তিনি। কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে শাহ সাফ জানালেন, এই বিল আটকে দিয়ে বিরোধীরা আসলে দেশের অর্ধেক জনসংখ্যার রোষের মুখে পড়ার পথ প্রশস্ত করল।
বিরোধী শিবিরের ওপর খড়্গহস্ত শাহ
বিলটি খারিজ হওয়ার ঠিক পরেই এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিরোধীদের একহাত নেন। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয়গুলো ছিল:
নারী শক্তির অপমান: শাহ বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদী মহিলাদের ক্ষমতায়নের জন্য যে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, বিরোধীরা স্রেফ সংকীর্ণ রাজনীতির জন্য তা ভেস্তে দিল।”
ভোটের বাক্সে জবাব: তাঁর হুঁশিয়ারি, দেশের নারী সমাজ এই ঘটনা ভুলে যাবে না। আগামী নির্বাচনে মহিলারা ব্যালট বক্সের মাধ্যমে এর যোগ্য জবাব দেবেন।
ছদ্মবেশ উন্মোচন: তিনি দাবি করেন, বিরোধীরা মুখে নারী অধিকারের কথা বললেও কাজের সময় তাদের আসল রূপ বেরিয়ে পড়েছে।
সংসদে যা ঘটেছিল
উল্লেখ্য, সরকার সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল এনেছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল মহিলাদের জন্য সংরক্ষণের পথ আরও প্রশস্ত করা। কিন্তু ভোটাভুটিতে: ১. সরকার প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ ভোট জোগাতে ব্যর্থ হয়। ২. ইন্ডিয়া (I.N.D.I.A.) জোটের অনড় মনোভাবের কারণে বিলটি বাতিল হয়ে যায়। ৩. বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, এই বিলের মধ্যে কিছু আইনি ফাঁক রয়েছে যা আসলে মহিলাদের স্বার্থহানি করবে।
সংঘাতের নতুন আবহ
অমিত শাহের এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক পারদ আরও চড়ল। বিজেপি এখন এই ইস্যুকে ঢাল করে দেশজুড়ে প্রচার শুরুর পরিকল্পনা করছে। গেরুয়া শিবিরের লক্ষ্য হলো, বিরোধীদের ‘নারী বিরোধী’ হিসেবে চিহ্নিত করা। অন্যদিকে, বিরোধীদের দাবি, সরকার অসম্পূর্ণ বিল এনে স্রেফ চমক দেওয়ার চেষ্টা করছিল।
সব মিলিয়ে, সংসদ ভবনের ভেতরে বিল হারলেও, এর রাজনৈতিক লড়াই এখন দিল্লির অলিগলি ছাড়িয়ে আমজনতার দরজায় পৌঁছাতে চলেছে। অমিত শাহের এই হুঁশিয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করল।





