লোকসভায় মোদী সরকারের মেগা সংশোধনী বিল থমকে যেতেই খুশির হাওয়া বিরোধী শিবিরে। আর এই জয়কে ‘ঐতিহাসিক’ বলে তকমা দিলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ ভোট জোগাতে না পেরে সরকারের বিল খারিজ হওয়াকে আদতে ‘সংবিধানের রক্ষা’ হিসেবেই দেখছেন তিনি। সংসদ চত্বরে দাঁড়িয়ে তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই কেন্দ্রকে বিঁধলেন মহুয়া।
“অহংকারের হার হয়েছে”
বিলটি খারিজ হওয়ার পর মহুয়া মৈত্র জানান, এই দিনটি ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তাঁর মতে, সরকার ভেবেছিল সংখ্যার জোরে যা খুশি চাপিয়ে দেওয়া যাবে, কিন্তু বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ লড়াই সেই দর্প চূর্ণ করেছে। মহুয়ার কথায়:
“সরকার ভেবেছিল বিরোধী কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করে দেওয়া যাবে, কিন্তু আজকের ফলাফল প্রমাণ করল সংবিধান কোনো ব্যক্তির ইচ্ছামতো চলে না।”
তিনি আরও যোগ করেন, এই হার আসলে বিজেপির ‘বুলডোজার’ মানসিকতার বিরুদ্ধে সংসদের চূড়ান্ত রায়।
কেন এত আক্রমণাত্মক মহুয়া?
তৃণমূলের এই তারকা সাংসদ বরাবরই সংসদে সরকারের বিভিন্ন নীতির কড়া সমালোচক। সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিলটি নিয়ে তাঁর অভিযোগ ছিল, সরকার মহিলাদের কথা বললেও আসলে এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় আঘাত করতে চাইছিল। মহুয়ার দাবি, বিরোধী জোটের সক্রিয়তা না থাকলে এই বিলের আড়ালে অনেক অগণতান্ত্রিক বিষয় পাশ হয়ে যেত।
ইন্ডিয়া জোটের শক্তি প্রদর্শন
মহুয়া মৈত্র মনে করেন, এই জয় কেবল তৃণমূল বা কংগ্রেসের নয়, এটি গোটা ইন্ডিয়া (I.N.D.I.A.) জোটের সংহতির প্রমাণ। তিনি সাফ জানান, ২০২৪-এর পর ২০২৬-এর এই পর্যায়ে এসে সরকার যে আর অপ্রতিরোধ্য নয়, তা আজ জলের মতো পরিষ্কার হয়ে গেছে।
শেষ কথা
সংসদে দাঁড়িয়ে মহুয়া মৈত্রের এই উচ্ছ্বাস আর আক্রমণাত্মক বয়ান বিজেপির অস্বস্তি যে আরও বাড়াল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কৃষ্ণনগরের সাংসদ বুঝিয়ে দিলেন, সংসদীয় লড়াইয়ে এক ইঞ্চি জমিও তাঁরা বিনা যুদ্ধে ছাড়বেন না। এখন দেখার, এই ‘ঐতিহাসিক হারের’ পর সরকার পক্ষ পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেয়।





