‘সাড়ে চুয়াত্তর’-এর রজনী চাটুজ্যে আক্ষেপ করে বলেছিলেন, “তুমি হলে আমার খেজুর গাছ, কাঁটা আছে ছায়া নেই।” সেই আক্ষেপের রেশ কি এবার সুদূর থাইল্যান্ডেও? স্ত্রীর সঙ্গে খুনসুটি কিংবা দাম্পত্যের ঝগড়ায় ক্লান্ত স্বামীদের জন্য এবার অদ্ভূত এক অফার নিয়ে এল থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী। রীতিমতো বিজ্ঞাপন দিয়ে ‘রয়্যাল থাই আর্মি’ বলেছে, “স্ত্রীকে নিয়ে ক্লান্ত? তাহলে এই এপ্রিলেই চলে আসুন, যোগ দিন সেনায়।”
সেনা বিজ্ঞাপনে ‘রোমান্টিক’ মিম! সেনাবাহিনী বললেই চোখে ভাসে কড়া শৃঙ্খলা আর গম্ভীর মুখ। কিন্তু থাই আর্মির এই রসিকতা দেখে নেটপাড়ায় হাসির রোল উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তারা নানা মিম পোস্ট করছে। কখনও বলা হচ্ছে, “প্রশিক্ষণ আপনাকে শৃঙ্খলা শেখাবে, আর প্রতিদানে সেনাবাহিনী থেকে মিলবে বোনের মতো ভালোবাসা।” আবার কখনও সরাসরি প্রশ্ন করা হচ্ছে— বউকে একঘেয়ে লাগছে কি না। লাগলে মুক্তির উপায় একটাই, সেনার ব্যারাক!
কেন এই সরস বিজ্ঞাপনের হিড়িক? বিষয়টা যতটা হাস্যকর, নেপথ্যের কারণটা ততটাই গভীর। থাইল্যান্ডে সেনায় যোগ দেওয়ার দু’টি পথ— স্বেচ্ছায় অথবা লটারির মাধ্যমে। কিন্তু বর্তমানে থাইল্যান্ডের অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত করুণ। চাকরি নেই, পর্যটন আর কৃষিনির্ভর অর্থনীতি ধুঁকছে। এই অবস্থায় সেনাবাহিনী হলো সবথেকে ‘সেফ অপশন’।
বেতন: মাসে ১১ হাজার ভাট (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩২,৪১৪ টাকা)।
সুবিধা: থাকা-খাওয়া সম্পূর্ণ ফ্রি।
পরিসংখ্যান: চলতি বছরে ৫০ হাজার যুবক স্বেচ্ছায় সেনায় যোগ দিয়েছেন, যা গত বছরের তুলনায় ২২% বেশি।
লটারির ভয় বনাম অর্থনীতির চাপ ২৩ বছরের যুবক ক্রিসানা ফুলং যেমন লটারির ‘লাল কার্ড’ (বাধ্যতামূলক সেনা সেবা) ওঠার ভয় না পেয়ে নিজেই নাম লিখিয়েছেন। তাঁর কথায়, “অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খুব খারাপ। কোম্পানিগুলো লোক নিচ্ছে না। তাই নিজেই ক্যাম্প বেছে নিয়েছি।” রয়্যাল থাই আর্মি তরুণ প্রজন্মের মন জিততে তাই প্রেম, ভালোবাসা আর দাম্পত্যের এই ‘নরম’ তাস খেলছে।
দাম্পত্য কি শুধুই রণক্ষেত্র? সমালোচকদের মতে, সেনা হয়তো ব্যারাকের শৃঙ্খলা শেখাতে পারে, কিন্তু দাম্পত্যের সেই ‘শীতল ছায়া’ কি সেখানে মিলবে? রজনীবাবু তাঁর স্ত্রীকে খেজুর গাছ বললেও, তার মধ্যে যে অনুযোগ আর ভালোবাসা ছিল, তা কি বন্দুকের নলে খুঁজে পাওয়া সম্ভব? সংসার যে বড় রণক্ষেত্র, সেখানে হার-জিতের চেয়েও মায়াটুকু বেশি দামি— যা হয়তো রয়্যাল আর্মির রাফ-অ্যান্ড-টাফ জওয়ানরা বুঝবে না!





