অনিল আম্বানির বিরুদ্ধে লুক-আউট সার্কুলার জারি, ৩০০০ কোটি টাকার ঋণ কেলেঙ্কারিতে ইডির কড়া পদক্ষেপ

রিলায়্যান্স গ্রুপের চেয়ারম্যান অনিল অম্বানীর আইনি জটিলতা আরও গভীর হলো। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) সূত্রে শুক্রবার জানা গেছে যে, ৩,০০০ কোটি টাকার ঋণ অনিয়ম মামলায় তার বিরুদ্ধে লুক-আউট সার্কুলার (LOC) জারি করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে রিলায়্যান্স কর্তা এখন দেশত্যাগ করতে পারবেন না।

ইডির তলব উপেক্ষা ও পরবর্তী পদক্ষেপ
সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার ইডির তলব সত্ত্বেও অনিল অম্বানী হাজিরা দেননি। এরপরই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তার বিরুদ্ধে এই কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর এবং সীমান্তগুলিতে লুক-আউট সার্কুলার জারি করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে, যাতে অনিল অম্বানী কোনোভাবেই দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন।

ইয়েস ব্যাংক ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগ
২০০৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত রিলায়্যান্স গ্রুপ বেশ কয়েক দফায় ইয়েস ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ গ্রহণ করে। ইডির অভিযোগ, এই ঋণ মঞ্জুরের সময় যথাযথ ব্যাঙ্কিং নিয়ম মানা হয়নি। ইডির তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে যে, ঋণ পাওয়ার আগে ইয়েস ব্যাংকের কয়েকজন কর্তা বড় অঙ্কের টাকা পেয়েছিলেন, যা এক ধরনের ‘অপ্রকাশিত বিনিময় ব্যবস্থা’ (Quid Pro Quo) বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এই অভিযোগ অনিল আম্বানির বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

এসবিআই দ্বারা ‘প্রতারণামূলক হিসাব’ চিহ্নিতকরণ
একইসঙ্গে, আরেকটি বড় খবর হলো, অনিল অম্বানীর অপর সংস্থা রিলায়্যান্স কমিউনিকেশনস (RCom)-এর ঋণ অ্যাকাউন্টকে ‘ফ্রড’ বা প্রতারণামূলক হিসাব হিসেবে চিহ্নিত করতে চলেছে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (এসবিআই)। এই সংক্রান্ত রিপোর্টে অনিল অম্বানীর নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হবে বলে জানা যাচ্ছে, যা পরবর্তীতে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কাছে জমা পড়বে। গত ২৩শে জুন এসবিআই আরকম-কে এই মর্মে একটি চিঠি পাঠিয়েছিল, যা শেয়ার বাজারের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার পরেই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

এই প্রসঙ্গে অনিল অম্বানীর আইনজীবী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, এসবিআইয়ের এই চিঠি আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘন করেছে এবং বিষয়টি আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে খতিয়ে দেখা হবে।

পূর্বেও আইনি ঝামেলায় অনিল আম্বানি
উল্লেখ্য, এর আগেও অনিল অম্বানীর বিরুদ্ধে রিলায়্যান্স হোম ফিনান্সের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। ২০১৯ সালে এরিকসন মামলায় জরিমানা দিতে না পারায় তিনি জেল হেফাজতের মুখে পড়েছিলেন। সেই সময় তার বড় ভাই মুকেশ অম্বানী আর্থিক সহায়তা দিয়ে তাকে রক্ষা করেন।

কর্পোরেট ভাবমূর্তিতে বড় প্রভাব
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিল অম্বানীর সংস্থাগুলি দীর্ঘদিন ধরেই ঋণ অনিয়ম, আর্থিক অনুপযুক্ততা এবং ধুঁকতে থাকা ব্যবসার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এবার ইডির সক্রিয় পদক্ষেপ এবং ব্যাংকের ‘ফ্রড’ চিহ্নিতকরণ তার কর্পোরেট ভাবমূর্তির ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এখন দেখার, এই কঠিন আইনি ও আর্থিক পরিস্থিতি থেকে অনিল অম্বানী কীভাবে বেরিয়ে আসেন এবং এই আইনি লড়াই কতটা দীর্ঘ হয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy