বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটেছে। রাজ্যে নতুন সূর্যোদয় হিসেবে বিজেপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পথে। এই রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে যখন চারদিকে জয় শ্রীরাম ধ্বনি উঠছে, ঠিক তখনই এক নজিরবিহীন ও উদ্বেগজনক ঘটনার সাক্ষী থাকল দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর এলাকা। বিদায়ী মন্ত্রিসভার সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী তথা বালিগঞ্জের নবনির্বাচিত বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে গভীর রাতে হামলার অভিযোগ উঠল।
ভবানীপুরের রূপনারায়ণ নন্দন লেনে অবস্থিত বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদের বাসভবনের সামনে গত রাতে ব্যাপক হুজ্জুতি ও তাণ্ডব চালায় একদল দুষ্কৃতী। ঘটনার জেরে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে শোভনদেবের পরিবারে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একাধিক ঝড়ঝাপটা দেখলেও, নিজের বাড়ির সামনে এই ধরনের নিরাপত্তাহীনতায় রীতিমতো দুশ্চিন্তায় প্রবীণ এই নেতা। পরিস্থিতি এতটাই সংকটজনক যে, আজ নিরাপত্তার খাতিরে নিজের নাতনিকেও স্কুলে পাঠাতে পারেননি তিনি।
শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গত রাতে একদল লোক তাঁর বাড়ির সামনে এসে গোলমাল শুরু করে। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং জানলায় আঘাত করার মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ। আজ সকালে তিনি নিজেই স্থানীয় থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি বলেন, “পরিবার নিয়ে অত্যন্ত উদ্বেগের মধ্যে রয়েছি। নাতনিকে বাইরে বের করার সাহস পাচ্ছি না।”
এবারের নির্বাচনে বাংলায় এক বড়সড় পরিবর্তন এসেছে। নবান্নে যখন গেরুয়া আবির উড়ছে এবং কর্মীদের জয়োল্লাস চলছে, তখন তৃণমূলের একের পর এক হেভিওয়েট মন্ত্রীদের পরাজয় হয়েছে। কিন্তু এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও বালিগঞ্জ কেন্দ্রে নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছেন শোভনদেব। তিনি বিজেপির শতরূপা এবং সিপিআইএম-এর আফরিন বেগমকে বিপুল ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, বাম ও বিজেপি প্রার্থীর সম্মিলিত ভোটের প্রায় দ্বিগুণ ভোট পেয়েছেন তিনি। যেখানে বিজেপি প্রার্থী শতরূপা পেয়েছেন ৪৭,০০৫ ভোট, সেখানে শোভনদেব একাই পেয়েছেন ১,০৮,৪৮১ ভোট। ৬১,৪৭৬ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েও নিজের বাড়িতেই হামলার শিকার হওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলের কর্মী-সমর্থকরা। পুলিশের পক্ষ থেকে এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে।





