লখনউ-কানপুর এক্সপ্রেসওয়ে নিয়ে বড় দুঃসংবাদ! শেষ মুহূর্তে ভেস্তে গেল উদ্বোধন, কেন এমন সিদ্ধান্ত?

উত্তরপ্রদেশের দুই গুরুত্বপূর্ণ শহর লখনউ এবং কানপুরের মধ্যে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষের জন্য এক হতাশাজনক খবর সামনে এসেছে। বহু প্রতীক্ষিত লখনউ-কানপুর এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২৯শে এপ্রিল এই হাই-টেক এক্সপ্রেসওয়েটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ থেকে যাওয়ায় ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (NHAI) শেষ মুহূর্তে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কেন স্থগিত হলো উদ্বোধন?
প্রশাসন সূত্রে খবর ছিল যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২৯শে এপ্রিল গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের পাশাপাশি এই লখনউ-কানপুর এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পেরও উদ্বোধন করবেন। তবে লখনউ সংলগ্ন অংশে কিছু কারিগরি ত্রুটি এবং পরিকাঠামোগত নির্মাণ এখনও বাকি রয়েছে। বিশেষ করে খাণ্ডেদেব এবং শিবপুরা টোল প্লাজার চারপাশের কাজ এখনও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে। এর পাশাপাশি রাস্তার আলো (Street Lights), নিরাপত্তা বেষ্টনী (Safety Fencing) এবং সাইন বোর্ডের মতো অত্যাবশ্যকীয় কিছু ফিনিশিং টাচ বাকি রয়ে গেছে।

NHAI-এর কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, যাত্রীদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। প্রকল্পের ‘কমপ্লিশন সার্টিফিকেট’ বা সমাপ্তি সনদ হাতে না আসা পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়েটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা আইনত অসম্ভব এবং ঝুঁকিপূর্ণ। এই কারণেই উদ্বোধনের তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কবে খুলবে এই স্বপ্নের এক্সপ্রেসওয়ে?
জাতীয় মহাসড়ক কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাকি থাকা সমস্ত ছোটখাটো কাজ আগামী ১৫ই মে-র মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে, তবে মে মাসের দ্বিতীয়ার্ধে অর্থাৎ ২০ তারিখের পর যেকোনো দিন এটি উদ্বোধন করা হতে পারে।

প্রকল্পের একনজরে খুঁটিনাটি:

মোট দৈর্ঘ্য: ৬৪ কিলোমিটার।

নির্মাণ ব্যয়: প্রায় ৩,১০০ কোটি টাকা।

বিস্তৃতি: উন্নাও জেলায় রয়েছে ৪৫.৩ কিমি এবং লখনউ অংশে রয়েছে ১৮.৭ কিমি।

পর্যায়: প্রকল্পটি দুটি পর্যায়ে বিভক্ত। উন্নাওয়ের আজাদ নগর থেকে লখনউ সীমান্ত পর্যন্ত ‘ফেজ ২’-এর কাজ ইতিমধ্যেই শেষ এবং এর সার্টিফিকেটও মিলেছে। বর্তমানে ‘ফেজ ১’-এর কাজ শেষ করাই প্রধান লক্ষ্য।

এই এক্সপ্রেসওয়েটি চালু হলে লখনউ থেকে কানপুর পৌঁছানো যাবে মাত্র কয়েক মিনিটে। প্রতিদিনের যানজট থেকে মুক্তি পাবেন হাজার হাজার নিত্যযাত্রী, পড়ুয়া এবং ব্যবসায়ীরা। সময় বাঁচার পাশাপাশি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে জ্বালানি খরচও। তবে সেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার জন্য যাত্রীদের আরও অন্তত দিন পনেরো অপেক্ষা করতে হবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy