SIR আতঙ্কের মাঝে ভয়ংকর ঘটনা! দু’বারের প্রিসাইডিং অফিসারেরই বাতিল হলো ভোটার কার্ড ও আধার!

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই রাজ্যের বৈধ ভোটারদের মনে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা আরও বাড়িয়ে দিল বারুইপুরের এক প্রবীণ নাগরিকের ঘটনা। কলকাতা কর্পোরেশনের উচ্চপদে কর্মরত এবং দু’দুবারের প্রিসাইডিং অফিসার উৎপল সর্দারের ভোটার লিস্ট থেকে নাম বাদ যাওয়া ও আধার কার্ড বাতিল হওয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে।

উৎপল বাবুর মতো দায়িত্বশীল সরকারি আধিকারিকের এই পরিণতিতে রাজ্যে থাকা বৈধ ভোটারদের মনে এখন আশঙ্কার কালো মেঘ ঘনাচ্ছে।

দায়িত্ব পালন করেও নিজেই ‘অবৈধ’!
উৎপল সর্দারের ভোটার কার্ড ১৯৯৫ সালের এবং তিনি নিয়মিত ভোট দিয়ে এসেছেন। তিনি গত ২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন এবং গত ২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন।

কিন্তু সপ্তাহখানেক আগে ব্যক্তিগত কাজ করতে গিয়ে তিনি দেখেন, তাঁর নিজের ভোটার কার্ড বাতিল হয়ে গিয়েছে, ভোটার লিস্ট থেকে নাম বাদ গিয়েছে। এর মধ্যেই আবার মোবাইলে মেসেজ এসেছে আধার কার্ড বাতিল নিয়ে। শুধু তাই নয়, ব্যাঙ্ক থেকেও কেওয়াইসি (KYC) লিংক করার মেসেজ এসেছে।

পরিবারের উদ্বেগ: গত বছর উৎপল বাবুর স্ত্রী রেণু সর্দারের নামও ভোটার লিস্ট থেকে বাদ যায়। এবার নিজের কার্ড বাতিল হওয়ায় রীতিমতো মানসিক চাপে রয়েছে উৎপল বাবুর পরিবার।

ভবিষ্যতের চিন্তা: তিনি ভেবে পাচ্ছেন না, বাতিল হওয়া কার্ড নিয়ে ব্যাঙ্কে কেওয়াইসি আপডেট করবেন কীভাবে? তাঁর অ্যাকাউন্টে আদৌ মাইনে ঢুকবে কিনা এবং ঢুকলেও তিনি তা তুলতে পারবেন কিনা, সেই চিন্তা এখন তাঁকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে।

SIR-কে স্বাগত, তবু কমিশনের কাছে কাতর আবেদন
যদিও এই চরম পরিস্থিতির মধ্যেও উৎপল সর্দার জানিয়েছেন যে, রাজ্যে SIR প্রক্রিয়া হওয়া প্রয়োজন এবং তিনি কোনোভাবেই SIR নিয়ে আতঙ্কিত নন। তিনি ইতিমধ্যেই অনলাইনে ভোটার কার্ডের জন্য আবেদন করেছেন এবং রাজ্যে SIR-কে স্বাগত জানাচ্ছেন।

তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি দলের কাছে কাতর আবেদন জানিয়েছেন:

১. তাঁর ভোটার লিস্ট থেকে নাম বাদ যাওয়া ও আধার কার্ড বাতিলের কারণ খতিয়ে দেখা হোক।
২. এ রাজ্যে থাকা কোন বৈধ ভোটারের যেন ভোটার লিস্টের তালিকা থেকে নাম বাদ না যায়, তা নির্বাচন কমিশন সুনিশ্চিত করুক।

আগামী ১৫ অক্টোবরের পরই রাজ্যে SIR শুরু হতে পারে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুভেন্দু অধিকারী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে। তবে উৎপল সর্দারের মতো একজন নির্বাচন কর্মী ও বৈধ নাগরিকের এই ঘটনা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলল।