PHD-তে ভর্তির নিয়মে বড় বদল! এবার মানতে হবে UGC-র কড়া নির্দেশ

এতদিন রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পিএইচডি (PhD)-তে ভর্তির জন্য নিজস্ব প্রবেশিকা পরীক্ষা নেওয়ার যে নিয়ম চালু ছিল, তাতে বড়সড় বদল আনল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। উচ্চ শিক্ষা দফতরের তরফ থেকে রাজ্যের সমস্ত সরকারি, সরকার পোষিত এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারদের কাছে পাঠানো নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, আর নিজেদের মর্মে কোনও এন্ট্রান্স টেস্ট নিতে পারবে না বিশ্ববিদ্যালয়গুলি। এখন থেকে ইউজিসি (UGC)-র নিয়ম মেনেই গবেষণায় পড়ুয়া ভর্তি করতে হবে।
কী বলছে নতুন নিয়ম?
ইউজিসির ২০২২ সালের গাইডলাইন অনুযায়ী, দেশজুড়ে পিএইচডি গবেষণায় স্বচ্ছতা আনতে বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক প্রবেশিকা পরীক্ষা বাতিলের কথা বলা হয়েছিল। তবে এতদিন বাংলায় সেই নিয়ম পুরোপুরি কার্যকর না হওয়ায় রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি আলাদা পরীক্ষা নিয়ে গবেষক ভর্তি করত।
নতুন বিজ্ঞপ্তির জেরে সেই পুরনো প্রথায় ইতি টানা হলো। এখন থেকে ইউজিসির নির্দেশিকা মেনে—
শুধুমাত্র নেট (NET), গেট (GATE) কিংবা সমতুল্য সর্বভারতীয় স্তরের যোগ্যতা অর্জনকারী পরীক্ষার্থীরাই পিএইচডি-তে এনরোল করতে পারবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব প্রবেশিকা পরীক্ষা, এমফিল (M.Phil) কিংবা সেট (SET)-এর মাধ্যমে আর সরাসরি পিএইচডি করা যাবে না।
শিক্ষামহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন শিক্ষাবিদদের একটি বড় অংশ। তাদের অভিযোগ, এতদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব প্রবেশিকা পরীক্ষার আড়ালে ব্যাপক পক্ষপাতিত্ব চলত। অধ্যাপক বা কর্তৃপক্ষের ঘনিষ্ঠরা অনায়াসেই সুযোগ পেলেও যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হতেন। স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এই সর্বভারতীয় মানদণ্ড অত্যন্ত কার্যকর হবে বলে মত তাদের।
তবে শিক্ষকদের অপর একটি অংশ আবার এই নিয়মের কিছু ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, ফুড টেকনোলজি, ফিল্ম স্টাডিজের মতো বহু বিশেষায়িত বা আধুনিক বিষয় রয়েছে যেগুলিতে নেট বা গেট পরীক্ষা হয় না। সেই সব ক্ষেত্রে কীভাবে গবেষক বা বিভাগগুলি ছাত্রছাত্রী নেবে, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও নির্দেশিকা আসেনি।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও। এ বিষয়ে এবিভিপি (ABVP)-র স্টেট ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য মানস বর্মন সরকারকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, “বিগত দিনে কীভাবে পিএইচডি নিয়ে দুর্নীতি ও ব্যবসা চলেছে তা আমরা দেখেছি। অনেকে শুধু তোষামোদ করেই ডিগ্রি পেয়ে গিয়েছেন। সরকারের এই পদক্ষেপে যোগ্যতার মূল্যায়ন হবে এবং দুর্নীতির অবক্ষয় থেকে শিক্ষা জগৎ মুক্তি পাবে।” সব মিলিয়ে, পিএইচডি ভর্তির এই নতুন নিয়ম রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় এক সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে চলেছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।