“ভারত সফরের আগেই হুঙ্কার!”-প্রস্তুতি ম্যাচ না খেলেই বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি জয়ের ছক কষছে অস্ট্রেলিয়া

আসন্ন বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফিকে সামনে রেখে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে ক্রিকেট বিশ্ব। ২০০৪-০৫ মরসুমের পর থেকে ভারতের মাটিতে কোনো টেস্ট সিরিজ জিততে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। ফলে ২০২৬ সালের এই হাই-ভোল্টেজ সিরিজ জয়ের জন্য এবার মরিয়া হয়ে উঠেছে প্যাট কামিন্স-স্টিভ স্মিথরা। তবে সিরিজের আগেই অস্ট্রেলিয়ান দলের হেডকোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ডের একটি মন্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র চর্চা। প্রতিপক্ষের মাটিতে পা রাখার আগেই কোনো অফিশিয়াল প্রস্তুতি ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অজি শিবির, যা তাদের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের পরিচায়ক বলেই মনে করছেন অনেকে।
প্রস্তুতি ম্যাচ ছাড়াই মাঠে নামার ছক
অস্ট্রেলিয়ার হেডকোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ভারতের মাটিতে পা রেখে তারা কোনো অনুশীলন বা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবেন না। পরিবর্তে, উপমহাদেশীয় পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে একটি সংক্ষিপ্ত ও নির্দিষ্ট প্রস্তুতি শিবিরের ওপরই ভরসা রাখছে দল।
ম্যাকডোনাল্ডের বক্তব্য, সঠিক ভেন্যু নির্বাচন করতে পারলে সেখানে প্রথম টেস্ট বা পুরো সিরিজের আবহ হুবহু অনুকরণ করা সম্ভব। তিনি বলেন, “অস্ট্রেলিয়া কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে না এবং নির্দিষ্ট ভেন্যুর ওপরই মনোযোগ দেবে। অতীতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং বেঙ্গালুরুর আলুরে আমাদের অভিজ্ঞতা রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে প্রস্তুতির সঠিক কাঠামো নিয়ে কাজ চলছে।”
তদন্ত ও পরিসংখ্যান বলছে, অস্ট্রেলিয়া তাদের দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ড সফরে স্থানীয় দলগুলির বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচ খেললেও, ভারতের ক্ষেত্রে তারা সম্পূর্ণ ভিন্ন ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিল।
খেলোয়াড়দের পরিকল্পনা ও বিগ ব্যাশ বিতর্ক
আসন্ন ভারত সফরের জন্য ম্যাথিউ কুনেমান, টড মারফি, কুপার কনলি, পিটার হ্যান্ডসকম্ব এবং ম্যাথিউ রেনশের মতো খেলোয়াড়দের সংক্ষিপ্ত তালিকায় রাখা হয়েছে। কোচের নির্দেশ অনুযায়ী, নিউজিল্যান্ড সিরিজের পর যে সমস্ত খেলোয়াড় সরাসরি ভারতের মাটিতে টেস্ট খেলার জন্য বিবেচিত হবেন, তাঁদের বিগ ব্যাশ লিগ (BBL) বাদ দিয়ে ভারতে আসার প্রস্তুতিতে সেই সময়টা ব্যয় করতে হবে। ঘরের মাঠে ঘরোয়া টুর্নামেন্ট ছেড়ে এই বিশেষ শিবিরেই নজর দিতে চাইছে অজি টিম ম্যানেজমেন্ট।
আগামী ২১ জানুয়ারি নাগপুরে শুরু হতে চলা পাঁচ ম্যাচের এই টেস্ট সিরিজটি চলবে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে। নাগপুর, চেন্নাই, গুয়াহাটি ও রাঁচির পর আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল টেস্ট। এখন দেখার বিষয়, প্রস্তুতি ম্যাচের এই চাকা ঘুরিয়ে অজিরা ভারতের মাটিতে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য ছিনিয়ে আনতে পারে, নাকি তাদের এই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায়।