ইউপিআই ট্রানজাকশনে কি ফের ফিরছে চার্জ? ২০০০ টাকার বেশি লেনদেন নিয়ে কেন্দ্রের নতুন বিল ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা

দৈনন্দিন কেনাকাটা থেকে শুরু করে ছোট-বড় বিল মেটানো—আজকের দিনে নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে ইউপিআই (UPI) পেমেন্টের ওপর ভরসা করেন দেশের কোটি কোটি মানুষ। কিন্তু সাম্প্রতিক এক খবর ঘিরে সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হয়েছে বড়সড় প্রশ্ন। লোকসভায় পাশ হওয়া একটি নতুন বিলকে কেন্দ্র করে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে যে, তবে কি এবার ইউপিআই পেমেন্টেও অতিরিক্ত চার্জ বা মাশুল দিতে হতে পারে?

সংসদে কর ও অন্যান্য আইন (সংশোধনী) বিল ২০২৬: সম্প্রতি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন লোকসভায় ‘কর ও অন্যান্য আইন (সংশোধনী) বিল ২০২৬’ (Taxation and Other Laws (Amendment) Bill) পেশ করেছেন। এই প্রস্তাবিত বিলে পেমেন্ট ও সেটেলমেন্ট সিস্টেম আইন ২০০৭-এর পাশাপাশি আয়কর আইন ও অর্থ আইনেও কিছু সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই নতুন আইনের জেরেই ভবিষ্যতে ইউপিআই ট্রানজাকশনে ফের মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (MDR) বা এমডিআর চার্জ ফিরিয়ে আনার আইনি পথ প্রশস্ত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দেশে ডিজিটাল পেমেন্টের প্রচার ও প্রসার বাড়াতেই ইউপিআই এবং রুপে (RuPay) পেমেন্টে এমডিআর চার্জ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নিয়েছিল কেন্দ্র।

এমডিআর চার্জ কী এবং কাদের দিতে হতে পারে? মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট হলো এক ধরনের ফি, যা মূলত বিক্রেতা বা ব্যবসায়ীদের ব্যাঙ্ক কিংবা পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারদের প্রদান করতে হয়। এর জন্য সাধারণ গ্রাহকদের পকেট থেকে সরাসরি কোনো টাকা কাটার নিয়ম নেই।

রিপোর্ট অনুযায়ী, সরকার যদি ভবিষ্যতে এই চার্জ পুনরায় চালুও করে, তবে তা অত্যন্ত সীমিত কিছু ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। মূলত যে সমস্ত ব্যবসায়ীর বার্ষিক টার্নওভার বা আয় দেড় কোটি টাকার বেশি, তাদের ক্ষেত্রে ২,০০০ টাকার বেশি ইউপিআই লেনদেনের ওপর এমডিআর ধার্য করার একটি প্রস্তাব আলোচনার স্তরে রয়েছে।

গ্রাহকদের কি অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে? বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউপিআই পেমেন্টে বর্তমানে সাধারণ গ্রাহকদের কোনো চার্জ দিতে হয় না এবং নতুন এই নিয়মের ফলে সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর কোনো অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপার সম্ভাবনা নেই। যদি এমডিআর চার্জ ফের চালু হয়ও, তবে তা বহন করতে হবে পেমেন্ট গ্রহণকারী ব্যবসায়ীদেরই, সাধারণ গ্রাহকদের নয়। দেশজুড়ে ডিজিটাল পেমেন্ট পরিষেবা আরও টেকসই করতে এবং পেমেন্ট গেটওয়ে বা সার্ভিস প্রদানকারী সংস্থাগুলির সীমিত হয়ে আসা আয় বাড়াতেই সরকারের এই নতুন পদক্ষেপ ঘিরে এখন দানা বাঁধছে নানা অর্থনৈতিক জল্পনা।