EMPA-কি এখন রাজনৈতিক রণাঙ্গন? অফিস শুদ্ধিকরণ থেকে সভাপতি বদল—উত্তপ্ত টলিউড

ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশন বা ইম্পা (EIMPA)-র অন্দরে ক্ষমতা দখলের লড়াই এখন তুঙ্গে। গত শুক্রবারের উত্তপ্ত পরিস্থিতির পর রতন সাহাকে অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলেও, এই সিদ্ধান্তকে সরাসরি খারিজ করলেন বর্তমান সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত। সোমবার সাংবাদিক বৈঠক করে পিয়া স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, কোনো বৈধ নির্বাচন ছাড়াই তাঁকে সরানোর এই প্রক্রিয়া তিনি মানছেন না।

কী বলছেন পিয়া সেনগুপ্ত? সোমবার প্রেস ক্লাবের বৈঠকে পিয়া সেনগুপ্ত জানান, শুক্রবারের বৈঠকে অশান্তির জেরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তাঁর কথায়, “আমি হার স্বীকার করে নিইনি, কারণ কোনো ভোটই হয়নি। গণতান্ত্রিক পদ্ধতি না মেনে কাউকে সভাপতি বসানো যায় না।” পিয়া আরও অভিযোগ করেন, ২০২৭ সাল পর্যন্ত তাঁর মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও তাঁকে অনৈতিকভাবে সরানো হয়েছে। তিনি জানান, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী এখন সংগঠনের সমস্ত দায়িত্ব তিন আইনজীবীর ওপর ন্যস্ত। আইনের পথেই তিনি এই লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন।

স্বজনপোষণ ও ট্রোলিং নিয়ে ক্ষোভ সাংবাদিক সম্মেলনে নিজের ছেলের প্রসঙ্গ তুলে পিয়া সেনগুপ্ত ক্ষোভ উগরে দেন শতরূপ সাহার বিরুদ্ধে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এতদিন যারা বনি সেনগুপ্তর বিরুদ্ধে স্বজনপোষণের অভিযোগ তুলতেন, তারা এখন কেন নীরব? এছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে নিয়ে চলা কুৎসিত ট্রোলিংয়ের বিরুদ্ধেও তীব্র প্রতিবাদ জানান পিয়া।

টলিউডের পালাবদলে ইম্পায় অস্থিরতা ঘটনার সূত্রপাত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন থেকে। পরাজিত তৃণমূলের শাসনভার পরিবর্তনের পর থেকেই ইম্পা অফিসে শুরু হয় নাটকীয় মোড়। সে দিনই বিকেলে শতদীপ সাহা, রতন সাহা, পীযূষ সাহাসহ একদল প্রযোজক ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিয়ে এবং গঙ্গাজল ছিটিয়ে ইম্পা অফিস ‘শুদ্ধ’ করেন। যা কার্যত সংগঠনের অন্দরে রাজনৈতিক মেরুকরণের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।

বর্তমানে একদিকে রতন সাহাকে নিয়ে নতুন কমিটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে, অন্যদিকে পিয়া সেনগুপ্ত আইনের আশ্রয় নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় ইম্পার ভবিষ্যৎ এখন ঝুলে রইল আইনি জটিলতার খাঁড়ায়। টলিপাড়ার এই সংঘাতে প্রযোজক মহলে রীতিমতো অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy