E20 জ্বালানির জেরে নষ্ট হতে পারে গাড়ি? রইল বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

দেশে ইথানল যুক্ত জ্বালানির (Ethanol Blended Fuel) ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়া নিয়ে বর্তমানে চারিদিকে তোলপাড় শুরু হয়েছে। আমদানির খরচ কমাতে কেন্দ্রীয় পরিবহণ মন্ত্রকের তরফে গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলিকে ইথানল মিশ্রিত পেট্রল চালিত গাড়ি তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ দূষণ রোধ করতে কেন্দ্র এই পদক্ষেপ নিলেও, E20 বা E85-এর মতো জ্বালানি ব্যবহারে গাড়ির মাইলেজ কমে যাওয়া এবং ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো আশঙ্কা নিয়ে চালকদের মনে নানা সংশয় দানা বেঁধেছে। তবে বেশ কিছু সহজ নিয়ম ও কৌশল মেনে চললে এই সমস্যা এড়ানো এবং গাড়ির মাইলেজ ধরে রাখা সম্ভব।

আপনার গাড়ি ও ইঞ্জিন সুস্থ রাখতে যে টিপসগুলি মেনে চলবেন:

  • টায়ারের হাওয়া চেক করা: গাড়ির জ্বালানি সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে টায়ারের প্রেশার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টায়ারে হাওয়া কম থাকলে রাস্তার সঙ্গে ঘর্ষণ বা ফ্রিকশন বাড়ে, ফলে ইঞ্জিনকে বেশি শক্তি প্রয়োগ করতে হয় এবং জ্বালানি বেশি খরচ হয়। তাই মাসে অন্তত দু’বার এবং লম্বা সফরে বেরোনোর আগে টায়ারের হাওয়া পরীক্ষা করা উচিত। এতে মাইলেজ যেমন বাড়ে, তেমনই টায়ারের আয়ুও দীর্ঘ হয়।

  • স্মার্ট ড্রাইভিং অভ্যেস: হঠাৎ করে গাড়ির গতি বাড়ানো (Acceleration) বা ঘন ঘন সজোরে ব্রেক কষা এড়িয়ে চলা উচিত। অযথা ওভারটেক করা বা হঠকারিতায় গাড়ি চালালে অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ হয়। এতে ব্রেক, সাসপেন্সন, ইঞ্জিন ও টায়ারের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।

  • নিয়মিত সার্ভিসিং ও এয়ার ফিল্টার বদল: সময়মতো গাড়ি সার্ভিসিং না করালে ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা দ্রুত হ্রাস পায়। নোংরা এয়ার ফিল্টার, পুরোনো ইঞ্জিন অয়েল কিংবা অপরিষ্কার ফুয়েল ইনজেক্টরের কারণে জ্বালানি বেশি পোড়ে। বিশেষ করে যারা E20 পেট্রল ব্যবহার করছেন, তাঁদের জন্য নিয়মিত গাড়ি সার্ভিসিং করানো এবং নির্দিষ্ট সময়ে এয়ার ফিল্টার বদলানো অত্যন্ত জরুরি।

  • এসি (AC) এর সঠিক ব্যবহার: সবসময় সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় এসি চালালে জ্বালানির খরচ অনেকটাই বেড়ে যায়। বিশেষ করে কম দূরত্বের যাত্রায় এসি ব্যবহারের ফলে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত মাইলেজ কমে যেতে পারে। গাড়ির গতি ৬০-৭০ কিমি/ঘণ্টার কম থাকলে জানলার কাচ খুলে রাখা ভালো। তবে হাইওয়েতে জানলা বন্ধ রেখে মাঝারি তাপমাত্রায় এসি চালানোই শ্রেয়।

  • সিগন্যালে ইঞ্জিন বন্ধ রাখুন: ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকার সময় অনেকেই গাড়ির ইঞ্জিন চালু রেখে দেন। এতে অকারণে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি নষ্ট হয়। যদি ৩০ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিটের বেশি সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, তবে অবশ্যই ইঞ্জিন বন্ধ করে দেওয়া উচিত।

  • অতিরিক্ত ওজন বর্জন করুন: গাড়িতে বিনা কারণে অতিরিক্ত ওজন বহন করলে ইঞ্জিনকে বেশি শক্তি প্রয়োগ করতে হয়, যা জ্বালানি খরচ বাড়িয়ে দেয়। অপ্রয়োজনীয় ভারী সরঞ্জাম বা লাগেজ গাড়িতে রাখা এড়ানো উচিত। পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থাগুলির মতে, প্রতি ৪৫ কেজি অতিরিক্ত ওজন গাড়ির মাইলেজ প্রায় ২ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, E20 পেট্রল পরিবেশবান্ধব হলেও এর কারণে কিছু ক্ষেত্রে মাইলেজ সামান্য কমতে পারে। তবে এই সহজ ও কার্যকরী টিপসগুলি নিয়মিত মেনে চললে সহজেই জ্বালানির খরচ বাঁচানো এবং আপনার সাধের চারচাকা বা বাইকটিকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।