পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ শুধু কি সীমান্তে সীমাবদ্ধ? উত্তরটা হলো ‘না’। এই যুদ্ধের ভয়াবহ প্রভাব এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল ভারতের এভিয়েশন (উড়ান) ও পর্যটন শিল্পে। পিএইচডি চেম্বার অফ কমার্সের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, শুধুমাত্র যুদ্ধের কারণে ভারতীয় এয়ারলাইন্সগুলির সম্মিলিত লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮,০০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে এয়ার ইন্ডিয়ার লোকসানের বহরই প্রায় ২২,০০০ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে।
কেন এই আকাশছোঁয়া লোকসান? বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে ইরানের আকাশপথ বর্তমানে পুরোপুরি বন্ধ। ফলে ভারত থেকে ইউরোপ বা আমেরিকাগামী বিমানগুলিকে অনেকটা পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে প্রতিটি ফ্লাইটে গড়ে ২ থেকে ৪ ঘণ্টা সময় বেশি লাগছে। জ্বালানি খরচ এবং আনুষঙ্গিক ব্যয় বাড়ায় উড়ান সংস্থাগুলি বাধ্য হয়েই টিকিটের দাম কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রচুর ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা।
বিপদে পর্যটন ও হোটেল ব্যবসা: রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, বিদেশের পর্যটকদের ভারতে আসা প্রায় ২০ শতাংশ কমে গিয়েছে। এর ফলে বড়সড় ক্ষতির মুখে হোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসা। কারণ, বিদেশি পর্যটকরা সাধারণত ডলারে পেমেন্ট করেন এবং এয়ারলাইন্সের বিজনেস ক্লাসে যাতায়াত করেন। এই আয় কমে যাওয়ায় সার্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তবে স্বস্তির বিষয় একটাই, দেশের অভ্যন্তরে (ডোমেস্টিক) পর্যটন ও ফুড ডেলিভারি ব্যবস্থা এখনও হোটেল ব্যবসাকে টিকিয়ে রেখেছে।
মানুষের গন্তব্য কি বদলাচ্ছে? খরচ এবং ঝুঁকির কারণে ভারতীয়রা এখন ইউরোপ বা আমেরিকার বদলে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া বা ভিয়েতনামের মতো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে ভ্রমণের দিকে ঝুঁকছেন। কিন্তু এই ছোট রুটগুলি বড় দেশগুলির লোকসান পুষিয়ে দিতে পারছে না।
বাঁচতে কী কী পরামর্শ? এই মহাসঙ্কট থেকে উত্তরণের জন্য কিছু জরুরি পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে রিপোর্টে:
বিমান জ্বালানির ওপর কেন্দ্র ও রাজ্যের সারচার্জ কমানো।
হোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের সহজ শর্তে ও কম সুদে ঋণ প্রদান।
ছোট ছোট আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো।
ডোমেস্টিক ট্যুরিজমের পরিকাঠামো আরও উন্নত করা।
যুদ্ধ থামার ইঙ্গিত না মিললে আগামী দিনে এই ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।





