৭.৭ তীব্রতার ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া! সুনামি সতর্কতা জারি, প্রাণহানির খবর ঘিরে আতঙ্ক

শনিবার ভোররাতে ৭.৭ তীব্রতার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়ার বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকা। ভোর ৪টে ৫৮ মিনিট নাগাদ অনুভূত হওয়া এই কম্পনের উৎসস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার গভীরে। এই প্রলয়ংকরী প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। কম্পনের তীব্রতায় একাধিক এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যে অনেকটাই, তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও থেকেই স্পষ্ট।

সুনামির সতর্কতা ও বর্তমান পরিস্থিতি

ভূমিকম্পের পরেই ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া ও ভূ-তাত্ত্বিক সংস্থা ‘বিএমকেজি’ তড়িঘড়ি সুনামি সতর্কতা জারি করে। উপকূলবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যদিও কিছু সময় পর সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে, তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, উপকূলে অন্তত তিন ফুট (এক মিটারের কম) উচ্চতার সুনামির ঢেউ আছড়ে পড়েছে।

জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থার মুখপাত্র দোদি ইউলিওভা জানিয়েছেন, নাজেওকেও এবং বিমা অঞ্চলের মতো এলাকাগুলিতে প্রায় এক মিনিট ধরে প্রবল কম্পন অনুভূত হয়েছে। আতঙ্কিত মানুষ প্রাণভয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। বেশ কিছু ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ভূমিকম্পের তীব্রতায় বহুতলের একাংশ ভেঙে পড়ছে, চারপাশ ঢেকে যাচ্ছে ধুলোর মেঘে। নিরাপত্তার খাতিরে এন্ডে জেলার একটি হাসপাতাল থেকে রোগীদের তড়িঘড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

কেন বারবার ভূমিকম্প ইন্দোনেশিয়ায়?

ভূ-তাত্ত্বিকদের মতে, ইন্দোনেশিয়া পৃথিবীর অন্যতম সক্রিয় ও বিপজ্জনক ‘প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত। টেকটোনিক প্লেটের ক্রমাগত সংঘর্ষের ফলে এই অঞ্চলে ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত একটি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। শনিবারের এই বড় কম্পনের পর একাধিক আফটারশক অনুভূত হওয়ায় প্রশাসনিক স্তরে এখনো হাই অ্যালার্ট জারি রাখা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং উদ্ধারকাজ কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর আধিকারিকরা।