ভারতের পথে তারিক রহমান! প্রথমবার দিল্লি সফরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, আলোচনার কেন্দ্রে হাসিনার প্রত্যর্পণ?

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের ভারত সফর নিয়ে কূটনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই মাসের ২০ থেকে ২৫ আগস্টের মধ্যে তারিক রহমানের প্রথম ভারত সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই হবে তাঁর প্রথমবার ভারত সফর। দুই দেশের পক্ষ থেকেই এই সফরের জন্য প্রবল আগ্রহ দেখা গেছে, তবে দীর্ঘ সময় ধরে দিনক্ষণ নিয়ে কিছুটা জটিলতা ছিল। অবশেষে, উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর ২০-২১ আগস্ট কিংবা ২১-২২ আগস্ট—এই দুটির মধ্যে একটি তারিখ চূড়ান্ত হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্র মারফত জানা গিয়েছে।

বর্তমানে এই সফরকে ঘিরে দুই দেশের সম্পর্কের সমীকরণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সম্প্রতি ১১ আগস্ট দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তার ঠিক আগের দিনই ১০ আগস্ট, ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের সঙ্গে তিনি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছিলেন। এই ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমেই সফরের বিষয়টি গতি পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এখনও এই সফরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি, তবে হাইকমিশনার ত্রিবেদীর তৎপরতা সফরটিকে প্রায় নিশ্চিত করে তুলেছে।

তবে তারিক রহমানের এই সম্ভাব্য সফরের নেপথ্যে বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যু। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। বর্তমানে তাঁর উপস্থিতি ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে কিছুটা কূটনৈতিক টানাপোড়েনের সৃষ্টি করেছে। সোমবার ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দ্রুত করার অনুরোধ জানানো হয়। ঢাকা মনে করছে, হাসিনাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনলে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা মোকাবিলা করা সহজ হবে।

এই আবহে আরও উত্তপ্ত হয়েছে পরিস্থিতির মোড়। গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে ‘ফরেন করেসপন্ডেন্টস’ ক্লাব অফ সাউথ এশিয়া’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্য এবং রাজনৈতিক মন্তব্যের পর ঢাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল অবশ্য এই অনুষ্ঠান থেকে নিজেদের দূরত্ব বজায় রেখেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, এটি একটি বেসরকারি সংস্থার আয়োজন এবং এর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই।

ঢাকা ও নয়াদিল্লির বর্তমান এই জটিল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তারিক রহমানের ভারত সফর শুধুমাত্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির বার্তা বহন করবে না, বরং শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ ও প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে কোনো সমাধানসূত্র বেরিয়ে আসে কি না, তা নিয়ে এখন গোটা দক্ষিণ এশিয়ার নজর রয়েছে।