২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের ধাক্কা সামলে এবার সম্মুখ সমরে নামলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বিকেলে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি যেমন সুর চড়ালেন জয়ী বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে, তেমনই জানিয়ে দিলেন— হারের গ্লানি নিয়ে ঘরে বসে থাকার পাত্রী তিনি নন। বরং জাতীয় রাজনীতিতে ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটকে শক্তিশালী করতে এবার কোমর বেঁধে নামছেন তিনি।
“হারিনি, তাই ইস্তফা দেওয়ার প্রশ্নই নেই”
নির্বাচনের ফলাফল সামনে আসার পর থেকেই মমতার পদত্যাগ নিয়ে যে জল্পনা চলছিল, তাতে এদিন জল ঢেলে দেন নেত্রী। অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে তিনি বলেন, “আমি হারিনি, পদত্যাগ করতে যাব কেন? বিজেপি নিজের জোরে জেতেনি, অন্তত ১০০টি আসনে ভোট লুট করেছে ওরা। জোর করে দখল করলেই আমি ইস্তফা দেব না।” তাঁর সাফ দাবি, এই নির্বাচনে তৃণমূলের মূল লড়াই ছিল নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে, আর কমিশনই এই নির্বাচনের আসল ‘ভিলেন’।
সন্ত্রাস ও ‘বদল-বদলা’ বিতর্ক
এদিন মমতা ২০১১-র পরিবর্তনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে দাবি করেন, তিনি ক্ষমতায় এসে সিপিআইএম-এর ওপর কোনও অত্যাচার করেননি, কেবল রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজিয়েছিলেন। কিন্তু এবার তাঁর কর্মীদের ওপর বিজেপি অকথ্য অত্যাচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মমতার কথায়, “আমি কলেজের সময় থেকে রাজনীতি করছি, কিন্তু এমন ভোট দেখিনি। ৭২-এর সন্ত্রাসের কথা শুনেছি, কিন্তু এবারের ঘটনা সব কিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে।”
যদিও মমতার এই ‘শান্তিপূর্ণ পরিবর্তনের’ দাবিকে নস্যাৎ করে দিয়েছেন সিপিআইএম নেতা ময়ূখ বিশ্বাস। পাল্টা তোপ দেগে তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মিথ্যে বলার সব সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছেন। ২০১১-র সেই রাতে হাজার হাজার বাম কর্মী ঘরছাড়া হয়েছিলেন, পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল পার্টি অফিস। কিন্তু ১৯৭৭-এ বামেরা যখন ক্ষমতায় এসেছিল, তখন এমনটা ঘটেনি।”
নজরে দিল্লি: ‘ইন্ডিয়া’ জোট নিয়ে বড় ঘোষণা
রাজ্যের মসনদ হাতছাড়া হলেও জাতীয় রাজনীতিতে নিজের প্রাসঙ্গিকতা বাড়াতে মরিয়া মমতা। তিনি জানান, রাহুল গান্ধী, সোনিয়া গান্ধী থেকে শুরু করে অরবিন্দ কেজরিওয়াল, তেজস্বী যাদব এবং হেমন্ত সোরেন— প্রত্যেকেই তাঁকে ফোন করে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
মমতা ঘোষণা করেন, “অখিলেশ যাদব আগামীকালই কলকাতায় আসছেন। একে একে সবাই আসবে। এখন আমি মুক্ত, আমার হাতে কোনও কাজ নেই। তাই এবার পুরো সময় দেব ইন্ডিয়া ব্লকের শক্তি বাড়াতে।”
পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে মমতা যেভাবে দিল্লির রাজনীতিতে মন দেওয়ার কথা বললেন, তাতে স্পষ্ট যে আগামী দিনে জাতীয় স্তরে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিজেকে অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন তিনি। এখন দেখার, মমতার এই ‘দিল্লি চলো’ অভিযান জাতীয় রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে।





