২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করে বাংলায় এবার নতুন সূর্যোদয় ঘটিয়েছে বিজেপি। তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মনে এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন— বেকারত্ব ঘুচিয়ে শিল্প আসবে তো? দীর্ঘ কয়েক দশকের ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভ্যাকিউয়াম’ বা শিল্পের শূন্যতা পূরণ করাই এখন নতুন সরকারের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। বিজেপির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁদের মূল লক্ষ্য হবে বাংলাকে ফের দেশের ‘শিল্পের পাওয়ার হাউস’ হিসেবে গড়ে তোলা।
রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার ফলে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে যে প্রশাসনিক সংঘাত ছিল, তার অবসান ঘটবে। এই ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার বাংলার অর্থনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
শিল্পের জোয়ার আনতে বিজেপির সম্ভাব্য ৩টি মাস্টারস্ট্রোক:
১. বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো: সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম পরবর্তী অধ্যায়ে বাংলার শিল্প-মানচিত্রে যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল, তা মেটাতে মোদি সরকার দেশি ও বিদেশি বড় শিল্পপতিদের সাথে সরাসরি আলোচনা শুরু করতে পারে। সূত্রের খবর, আইটি (IT), উৎপাদন (Manufacturing) এবং টেক্সটাইল সেক্টরে বড় বিনিয়োগ আনার তোড়জোড় শুরু হয়েছে।
২. ল্যান্ড ব্যাংক ও পরিকাঠামো উন্নয়ন: জমি সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে একটি আধুনিক ‘ডিজিটাল ল্যান্ড ব্যাংক’ তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে নতুন সরকারের। শিল্পস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ, রাস্তা এবং বন্দরের আধুনিকীকরণে কেন্দ্রীয় বাজেট থেকে বিশেষ প্যাকেজ পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
৩. এমএসএমই ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উৎসাহ: কেবল বড় শিল্প নয়, গ্রামবাংলার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে (MSME) চাঙ্গা করতে সহজ শর্তে ঋণ এবং বিশ্ববাজারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের পথ প্রশস্ত করা হবে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র আদলে ‘মেক ইন বেঙ্গল’ প্রজেক্ট চালু হতে পারে।
কেন আশাবাদী শিল্পমহল? শিল্পপতিদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে প্রতিভার অভাব নেই, অভাব ছিল সঠিক পরিকাঠামো ও নীতিগত স্বচ্ছতার। বিজেপি ক্ষমতায় আসায় কেন্দ্রীয় স্তরের একাধিক প্রজেক্ট (যেমন ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডোর) দ্রুত বাস্তবায়িত হবে। এতে লজিস্টিক খরচ কমবে এবং বড় বড় সংস্থাগুলো বাংলাকে তাঁদের হাব হিসেবে ব্যবহার করতে উৎসাহী হবে।
কর্মসংস্থানের নতুন দিশা: বিজেপির নির্বাচনী ইস্তেহার অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে কয়েক লক্ষ কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। যদি শিল্পের এই জোয়ার সত্যিই বাস্তবে রূপ নেয়, তবে পরিযায়ী শ্রমিকদের আর ভিন রাজ্যে পাড়ি দিতে হবে না।
বাংলার মানুষ এখন পরিবর্তনের সুফল হিসেবে নবান্নের অন্দরে ফাইল চলাচলের বদলে কারখানার চাকা ঘোরার অপেক্ষায় রয়েছেন। মোদি-শাহর নেতৃত্বে বিজেপি কি পারবে বাংলার হারানো গৌরব ফিরিয়ে দিতে? উত্তর লুকিয়ে আছে আগামী কয়েক মাসের প্রশাসনিক পদক্ষেপের ওপর।





