মাঝ আকাশে নিখোঁজ আমেরিকার দানবীয় বিমান! কাতার উপকূলে বিপদবার্তা পাঠিয়েই ভ্যানিশ ‘ফ্লাইং গ্যাস স্টেশন’

পারস্য উপসাগরের আকাশে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গেল মার্কিন বায়ুসেনার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিমান। বোয়িং কেসি-১৩৫ (KC-135) স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার নামক এই বিমানটি কাতারের আকাশসীমা থেকে হঠাতই রাডারের বাইরে চলে যায়। নিখোঁজ হওয়ার ঠিক আগে বিমানটি থেকে একটি জরুরি বিপদবার্তা (7700 Distress Signal) পাঠানো হয়েছিল। এরপর থেকেই সেটির আর কোনো হদিস মিলছে না।

কী ঘটেছিল মাঝ আকাশে? ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর আল ধাফরা এয়ার বেস থেকে ওড়ার কিছু সময় পর বিমানটি পারস্য উপসাগরের ওপর দিয়ে ওড়ার সময় সমস্যার মুখে পড়ে। বিমানটি আকাশে বেশ কয়েকবার বৃত্তাকারে ঘুরে নিচের দিকে নামতে শুরু করেছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাইলট সম্ভবত কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাতার উপকূলের কাছে বিমানটির ট্রান্সপন্ডার সিগন্যাল সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

কেন এই বিমানটি এত গুরুত্বপূর্ণ? নিখোঁজ কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কারটিকে বলা হয় বায়ুসেনার ‘ফ্লাইং গ্যাস স্টেশন’ বা উড়ন্ত পেট্রোল পাম্প। যুদ্ধবিমান এবং বোমারু বিমানগুলিকে মাঝ আকাশে জ্বালানি সরবরাহ করার কাজ করে এটি। বর্তমানে এই অঞ্চলে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামক অভিযানের দ্বিতীয় দিনে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমান নিখোঁজ হওয়া নিয়ে পেন্টাগনের অন্দরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

তদন্তে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য: ইতিমধ্যেই আল উদেইদ এয়ার বেস থেকে উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার তল্লাশিতে নেমেছে। তবে এখনো পর্যন্ত মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত করা হয়নি। অনেকে আশঙ্কা করছেন, এই অঞ্চলে জিপিএস জ্যামিং বা সিগন্যাল ইন্টারফেয়ারেন্সের কারণেও এমনটা ঘটে থাকতে পারে। তবে মাঝ আকাশে হঠাত করে সিগন্যাল গায়েব হয়ে যাওয়ায় নাশকতার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

আমেরিকা ও ইরানের এই স্নায়ুযুদ্ধের আবহে নিখোঁজ এই বিমানের পরিণতি কী হল, তা জানতে আপাতত নজর রয়েছে গোটা বিশ্বের দিকে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy