৪ ডিসেম্বরের মধ্যেই ডিজিটাইজেশন! ‘অজুতাহ চলবে না’, জেলাশাসকদের বৈঠকে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার

রাজ্যের জেলা প্রশাসন ও ব্লক লেভেল অফিসারদের (BLO) আর্জি উপেক্ষা করেই ভোটার তালিকা ডিজিটাইজেশন সংক্রান্ত সময়সীমা বাড়ানো হবে না— শুক্রবার কলকাতায় জেলা শাসকদের সঙ্গে বৈঠকে এই নির্দেশ স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন ভারতের নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ ভারতী। কমিশনের চূড়ান্ত বার্তা, ৪ ডিসেম্বরের মধ্যেই সমস্ত ডিজিটাইজেশন কাজ শেষ করতে হবে এবং কোনও অজুহাতেই সময় বাড়ানো হবে না।

নির্বাচন কমিশনের এই কঠোর অবস্থানে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

কাজের চাপ দ্বিগুণ, ৪৫ মিনিট লাগছে এক ফর্মে!
জানা গিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার BLO-দের কাছ থেকে অতিরিক্ত কাজের চাপ নিয়ে একের পর এক অভিযোগ আসছিল। কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া এবং পূর্ব বর্ধমানের বহু BLO জানাচ্ছেন, তাদের কাজের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় অন্তত দ্বিগুণ।

কমিশনের নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, এখন শুধুমাত্র ফর্ম নেওয়াই শেষ কাজ নয়। প্রত্যেকটি ফর্ম ডিজিটাইজ করে নির্দিষ্ট অ্যাপে আপলোড করা বাধ্যতামূলক। এর সঙ্গে বড় পরিবর্তন এসেছে ছবি আপলোডের ক্ষেত্রে— এনুমারেশন ফর্মে জমা দেওয়া ছবি স্পষ্ট না হলে, BLO-কেই ভোটারের বাড়িতে গিয়ে নতুন ছবি তুলে আপলোড করতে হবে।

বহু BLO ইউনিট অভিযোগ করেছে, ইন্টারনেটের গতি কম হলে একটি ফর্ম ডিজিটাইজ করতে ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে। ফলে এত কম সময়ে এত বিশাল কাজ শেষ করা তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।

বিক্ষোভ শুরু, কিন্তু কমিশন অনড়
কাজের বাড়তি চাপ এবং সময়ের অভাবের কারণে একাধিক জেলায় BLO-দের একাংশ বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন, কোথাও কর্মবিরতি, কোথাও বা স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্য, “কমিশনের নির্দেশ আমরা মানছি। কিন্তু কাজের পরিমাণ যেভাবে বেড়েছে, দুই সপ্তাহে সব শেষ করা অসম্ভব।”

জেলা শাসকেরাও CEC-র বৈঠকে BLO-দের সমস্যা তুলে ধরে সময় বাড়ানোর আর্জি জানান। কিন্তু বৈঠকে CEC জ্ঞানেশ ভারতী স্পষ্ট জানিয়ে দেন:

২৫ নভেম্বরের মধ্যেই সব ফর্ম সংগ্রহ শেষ করতে হবে।

৪ ডিসেম্বর প্রতিটি তথ্য ডিজিটাইজড হতে হবে।

কমিশনের যুক্তি, ডেডলাইন পিছোলে পুরো নির্বাচনী ক্যালেন্ডার বিঘ্নিত হবে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার গুরুত্ব থাকায় কমিশন কোনও শিথিলতা দেখাতে নারাজ। ফলে BLO-দের ভয়, এত কম সময়ে লক্ষাধিক ফর্ম ডিজিটাইজেশন করতে গেলে ভুলের ঝুঁকি বাড়বে এবং তাঁদেরই দায় নিতে হবে।