গুরুদেবের কর্মভূমিতে সমাগম, ভারত, নেপাল, জাপান, কোরিয়া-সহ ১৫ দেশের গবেষকরা! বিশ্বভারতীতে দু’দিনের আন্তর্জাতিক আলোচনাচক্র শুরু

‘বিশ্ব শান্তিতে বৌদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক স্তরের আলোচনাসভা শুরু হল বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের লিপিকা প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত এই দু’দিনের সভায় ভারত, রাশিয়া, চিন, বাংলাদেশ, তাইওয়ান-সহ মোট ১৫টি দেশ থেকে প্রায় ৩০০ জন বৌদ্ধভিক্ষুক অংশগ্রহণ করেছেন। শুধু তাই নয়, বিশ্বভারতীর পাশাপাশি নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়, মহারাষ্ট্র বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরাও এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাচক্রে অংশ নিয়েছেন।
বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বৌদ্ধ শিক্ষা বিভাগ ও কলকাতার সিদ্ধার্থ ইউনাইটেড সোশাল ওয়েলফেয়ার মিশনের উদ্যোগে এই সভাটি আয়োজিত হয়েছে।
শান্তির বার্তা নিয়ে হাজির আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বরা
আলোচনাসভার অন্যতম আয়োজক ও বিশ্বভারতীর প্রাক্তন অধ্যাপক কিশোর ভট্টাচার্য জানান, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, গৌতম বুদ্ধ ও বিশ্বশান্তি নিয়ে দুই দিনের আন্তর্জাতিক আলোচনা চক্র চলছে। অশান্ত বিশ্বে শান্তির বার্তা দিতে বিভিন্ন দেশ থেকে বৌদ্ধভিক্ষুক এবং গবেষকরা এসেছেন।” তিনি আরও জানান, বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ এই সভার মূল উদ্যোক্তা।
আলোচনায় অংশ নেওয়া ১৫টি দেশের মধ্যে রয়েছে: ভারত, রাশিয়া, চিন, নেপাল, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ, মায়ানমার, শ্রীলঙ্কা, ভূটান, তিব্বত, উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান এবং ইন্দোনেশিয়া।
গুরুদেবের কর্মভূমি থেকে বিশ্বশান্তির বার্তা
কলকাতার সিদ্ধার্থ ইউনাইটেড স্যোশাল ওয়েলফেয়ার মিশনের সাধারণ সম্পাদক ড. বুদ্ধপ্রিয় মাহাথেরা বলেন, “গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্বশান্তির উপর বহু কাজ করেছেন। তাঁর কর্মভূমি (শান্তিনিকেতন) থেকে আমরা বিশ্বশান্তির বার্তা দিতে পারছি। গৌতম বুদ্ধের প্রতি গুরুদেবের অনুরাগ ছিল অপরিসীম।”
আলোচনা শুরুর আগে বৌদ্ধভিক্ষুকরা শান্তিনিকেতনে একটি পদযাত্রা করে বিশ্ব শান্তির বার্তা দেন। ড. বুদ্ধপ্রিয় মাহাথেরা আরও বলেন, এই আলোচনায় দেশদেশান্তর থেকে বৌদ্ধভিক্ষুকরা আসায় অনেক কিছু জানার ও শেখার সুযোগ রয়েছে, এবং এই উপলক্ষে বিশিষ্টজনদের সম্মান জ্ঞাপনও করা হয়েছে।