৪৫০ কোটির ব্যাঙ্ক জালিয়াতিতে ইডির মেগা স্ট্রাইক! তিন রাজ্যের ৮ আস্তানায় তোলপাড় ফেলে দেওয়া তল্লাশি!

প্রায় ৪৫০ কোটি টাকার এক বিশাল ব্যাঙ্ক জালিয়াতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এই চক্রের মূল শিকড় উপড়ে ফেলতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইড)-র লখনউ আঞ্চলিক কার্যালয় শুক্রবার একযোগে এক বড়সড় অভিযান পরিচালনা করেছে। ইডি সূত্রের খবর, সন্তোষ ওভারসিজ লিমিটেড এবং তার একাধিক সহযোগী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত দিল্লি, উত্তর প্রদেশ এবং পাঞ্জাবের মোট আটটি স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই মেগা রেড চালানো হয়। ২০০২ সালের অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ)-এর অধীনস্থ কড়া ধারায় ইডি-র এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে, যা বর্তমানে রাজ্যগুলোর অপরাধীদের ঘুম উড়িয়ে দিয়েছে।

জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI)-এর দায়ের করা একটি নির্দিষ্ট এফআইআর-এর সূত্র ধরেই ইডি এই অর্থ পাচারের ঘটনার গভীরে তদন্ত শুরু করেছিল। সিবিআই-এর চার্জশিটে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, সন্তোষ ওভারসিজ লিমিটেড নামক সংস্থাটি একাধিক প্রধান ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত এক বিশাল কনসোর্টিয়ামকে প্রতারিত করে প্রতারণামূলক উপায়ে প্রায় ৪৫০ কোটি টাকার বিশাল অংকের ঋণ গ্রহণ করেছিল।

ইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে ও আর্থিক তথ্যাদি বিশ্লেষণে একের পর এক চাঞ্চল্যকর সত্য সামনে এসেছে। দেখা গিয়েছে, ব্যাংকের কাছ থেকে নেওয়া বিপুল অঙ্কের সেই ঋণের টাকা কোম্পানিটি তাদের নির্ধারিত ব্যবসা বা উৎপাদনের কাজে একেবারেই ব্যবহার করেনি। বরং অতি নিখুঁত ও পরিকল্পিত উপায়ে সেই বিশাল অঙ্কের মূলধনকে শেল কোম্পানি, এন্ট্রি অপারেটর এবং বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পূর্ণ অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই জালিয়াতি ঢাকতে এবং তহবিলের প্রকৃত উৎস ও গতিপথ গোপন রাখতে ভুয়া চালান বা ইনভয়েস তৈরি করা হয়েছিল এবং জটিল চক্রাকার আর্থিক লেনদেনের কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল।

ইডির বিশেষ গোয়েন্দা দল বর্তমানে কোম্পানির মূল প্রবর্তক বা প্রোমোটার, তাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সংস্থা এবং এই জালিয়াতির পেছনে থাকা সহ-অভিযুক্তদের বিভিন্ন ঠিকানায় তল্লাশি চালাচ্ছে। একইসঙ্গে বিপুল পরিমাণ গোপন নথিপত্র এবং ডিজিটাল ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংস্থার এক শীর্ষ আধিকারিক নিশ্চিত করেছেন যে, প্রতিটি কেন্দ্রেই অত্যন্ত নিয়ম মেনে ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে। ইডির স্পষ্ট অভিযোগ, ভুয়া ইনভয়েস, হাওয়ালা ডিলার এবং এন্ট্রি অপারেটরদের একটি বড় নেটওয়ার্ক তৈরি করে ব্যাংকের ৪৫০ কোটি টাকা বিভিন্ন স্তরে ভাগ করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। ইডির এই বিরাট পদক্ষেপের পর সংশ্লিষ্ট শিল্প ও ব্যাংক মহলে ব্যাপক তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।