নয় রূপের জাদুতে বুঁদ টলিউড! ঐতিহাসিক বিপ্লবীর চরিত্রে দেবের না হলেও জিতের কোন মেগা চমকে কাঁপছে পর্দা?

টলিউডের জনপ্রিয় সুপারস্টার জিৎকে নিয়ে বাংলা সিনেমা প্রেমীদের উন্মাদনা বরাবরই তুঙ্গে। তবে তাঁর আসন্ন ছবি নিয়ে যে ধরনের জল্পনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে, তা অতীতে খুব কম দেখা গিয়েছে। পরিচালক পথিকৃৎ বসুর আসন্ন এবং অত্যন্ত প্রতীক্ষিত বাংলা ছবি ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এ জিতের অভূতপূর্ব লুক ও চরিত্রায়ন এখন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে টলিপাড়ার অন্দরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ছবিতে মাত্র একজন অভিনেতা হয়েও পর্দায় মোট নয়টি আলাদা অবতারে ধরা দেবেন জিৎ। কখনও তাঁকে দেখা যাবে তরুণ ও দাপুটে স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসেবে, কখনও বা আত্মগোপনে থাকা বিপ্লবী, আবার কখনও সমাজের চোখে খলনায়ক বা ডাকাত হিসেবে। ঐতিহাসিক চরিত্র অনন্ত সিংহের জীবনের বিভিন্ন কালপর্ব ও বহুমুখী সত্তাকে পর্দায় নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতেই তাঁর এই বৈচিত্র্যময় রূপান্তর ঘটানো হয়েছে।

ছবির মুখ্য চরিত্র অনন্ত সিংহের জীবনের বিভিন্ন সময়কালকে ফুটিয়ে তোলার জন্য জিতের চেহারায় আনা হয়েছে তাক লাগানোর মতো পরিবর্তন। তরুণ বিপ্লবী থেকে শুরু করে বয়সের ভারে ন্যুব্জ এক প্রবীণ মানুষ—প্রতিটি স্তরে জিতের শারীরিক ভাষা, হাঁটাচলা, মুখের অভিব্যক্তি এবং সাজসজ্জায় আনা হয়েছে আমূল পরিবর্তন। টলিউডের এই কঠিন ও নিখুঁত রূপান্তরের নেপথ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন খ্যাতনামা মেকআপ শিল্পী সোমনাথ কুণ্ডু। তাঁর সুদীর্ঘ পরিকল্পনা, গবেষণা এবং নিখুঁত কর্মপ্রচেষ্টার মাধ্যমেই জিতের এই নয়টি আলাদা অবতার রূপ পেয়েছে। সোমনাথ কুণ্ডুর মতে, ক্যামেরার সামনে শুধুমাত্র মুখের রূপ বদলানোই তাঁদের মূল লক্ষ্য ছিল না। অনন্ত সিংহের জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ের সঙ্গে মানিয়ে তাঁর মানসিক দ্বন্দ্ব, মানসিকতার পরিবর্তন এবং পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিকে ফুটিয়ে তোলাও ছিল এক বিরাট বড় চ্যালেঞ্জ। তাই প্রতিটি আলাদা লুকের পিছনে কাজ করেছে গভীর ভাবনা ও সুনির্দিষ্ট ব্লু-প্রিন্ট।

ছবির পরিচালক পথিকৃৎ বসু সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে অনন্ত সিংহকে কোনো একটি সাধারণ পরিচয়ের গণ্ডিতে বেঁধে ফেলা সম্ভব নয়। ভারতীয় ইতিহাসের পাতায় তাঁকে যেমন এক লড়াকু বিপ্লবী হিসেবে দেখা হয়েছে, তেমনই তৎকালীন সমাজের একাংশ তাঁকে অন্য নজরেও দেখেছেন। সেই ঐতিহাসিক বিতর্ক ও মানসিক দ্বন্দ্বকেই অত্যন্ত সুনিপুণভাবে সেলুলয়েডের পর্দায় ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। ছবিটির পটভূমি সাজানো হয়েছে ষাটের দশকের কলকাতা ও তার আশপাশের ঘটনাপ্রবাহকে কেন্দ্র করে। অনন্ত সিংহের রোমাঞ্চকর জীবনসংগ্রাম এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির বদল—এই সমস্ত উপাদান নিয়েই আবর্তিত হয়েছে ছবির মূল চিত্রনাট্য।

উল্লেখ্য, এই মেগা প্রজেক্টে জিতের পাশাপাশি টলিউডের একঝাঁক প্রথিতযশা অভিনেতা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন। এই তালিকায় রয়েছে টোটা রায়চউধুরী এবং রাজতাভ দত্তের মতো জনপ্রিয় তারকাদের নাম। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে জিতের এই অভিনব লুক এবং নয়টি আলাদা চরিত্রের আবহে নিজেকে ভাঙড়ার ক্ষমতা দর্শকদের মধ্যে চরম প্রত্যাশা তৈরি করেছে। বাংলা সিনেমার ইতিহাসে এমন বহুমুখী চরিত্রায়ণ খুব কমই দেখা গিয়েছে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে তৈরি এই ছবি বক্স অফিসে নতুন কোনো রেকর্ড গড়ে কি না, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় রয়েছে সিনেমাপ্রেমীরা।