৩৭০ ধারা বাতিলের পরেও কি থামেনি রক্তপাত? ফারুক আবদুল্লার বিস্ফোরক মন্তব্যে চরম অস্বস্তিতে কেন্দ্র!

সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে সম্পূর্ণভাবে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করা সম্ভব হয়নি—রবিবার ঠিক এই ভাষাতেই মোদী সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানালেন ন্যাশনাল কনফারেন্স (NC) প্রধান তথা বর্ষীয়ান রাজনৈতিক নেতা ফারুক আবদুল্লা (Farooq Abdullah)। সম্প্রতি দক্ষিণ কাশ্মীরে দুটি বড় ধরনের ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী হামলার পর যখন দেশজুড়ে জোরদার তল্লাশি অভিযান এবং শত শত সন্দেহভাজনকে আটকের প্রক্রিয়া চলছে, ঠিক সেই敏感 মুহূর্তে এই বিস্ফোরক মন্তব্য করে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন ফেলে দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি জম্মু ও কাশ্মীরের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ঘুচিয়ে দ্রুত পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ারও জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ কাশ্মীরে পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর হওয়া বর্বরোচিত ও নিষ্ঠুর হামলার পর থেকেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতৃত্ব। রবিবার এক জনসভায় সরাসরি প্রশ্ন তুলে ফারুক আবদুল্লা বলেন, “আমাদের কাছে পরিষ্কার করে বলুন এই খুনিরা আসলে কারা? আপনারা তো এতদিন ধরে বুক ফুলিয়ে দাবি করছিলেন যে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে পাকাপাকিভাবে সন্ত্রাসবাদ চিরতরে শেষ হয়ে গেছে। যদি আপনাদের দাবি সত্যি হয়, তবে এই নির্মম হত্যাকারীরা কারা এবং কীভাবে তারা হামলা চালাচ্ছে?” সীমান্তে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকার সরকারি দাবির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, ২০১৯ সালের পর বাস্তব পরিস্থিতির কতটা পরিবর্তন ঘটেছে তা এখন সাধারণ মানুষের কাছেও স্পষ্ট। সীমান্তে সর্বক্ষণ কড়া নিরাপত্তার বেষ্টনী থাকার পরেও কীভাবে একের পর এক সন্ত্রাসবাদীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, সেই প্রশ্নও এ দিন জোরালোভাবে তোলেন তিনি।
পাশাপাশি, এ দিন পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (PoK)-এর করুণ মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখা যায় ফারুক আবদুল্লাকে। অত্যন্ত সংবেদনশীল সুরে তিনি দাবি করেন, “পিওকে-র সাধারণ মানুষ আমাদের নিজেদের ভাই-বোন, যারা দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানি রাষ্ট্রের চরম অত্যাচার এবং শোষণের মধ্যে অত্যন্ত দুর্বিষহ দিন কাটাচ্ছেন।” কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হল, ভারত সরকার কিংবা আন্তর্জাতিক মহল এই অমানবিক অত্যাচারের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কোনো জোরালো প্রতিবাদ করছে না। এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে পিওকে অঞ্চলে নিরপেক্ষ রাষ্ট্রসংঘের (UN) মানবাধিকার মিশন পাঠানোর জোরালো দাবি জানান তিনি।
এদিকে, সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনার সঙ্গে রাজ্যের পূর্ণ মর্যাদা ফেরানোর দীর্ঘদিনের দাবিকে একাসনে বসানোয় ফারুক আবদুল্লার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছে শাসক দল বিজেপি এবং বিরোধী দল পিডিপি (PDP)। দুই রাজনৈতিক দলই তাঁর এই মন্তব্যকে সম্পূর্ণ ‘অযৌক্তিক ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ বলে তীব্র ভর্ৎসনা করেছে। পিডিপি প্রধান মেহবুবা মুফতির কন্যা তথা নেত্রী ইলতিজা মুফতি (Iltija Mufti) সোশ্যাল মিডিয়ায় করা এক কড়া পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জম্মু ও কাশ্মীর সরকারের কাছে রাজ্যের মর্যাদা পুনরুদ্ধার করাটাই একমাত্র এবং শেষ কথা বলে মনে হচ্ছে। অথচ এই লজ্জাজনক সন্ত্রাসবাদী হামলায় নিরীহ ও গরিব শ্রমিকদের খুন করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক দলের মন্ত্রী ও নেতারা যেভাবে অর্থহীন ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব ফেঁদে বসেছেন, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। শোকের এই চরম সংবেদনশীল সময়টিকে রাজনৈতিক স্বার্থে বা ফায়দা তোলার জন্য ব্যবহার করা কোনোভাবেই উচিত নয়।”
রাজনৈতিক মহਲের স্মরণ থাকার কথা, এর আগে পহেলগাঁওয়ের অত্যন্ত ভয়াবহ এক সন্ত্রাসবাদী হামলায় বহু পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দা প্রাণ হারিয়েছিলেন। সেই মর্মান্তিক ঘটনার সময় ভারত সরকারের পক্ষ থেকে অত্যন্ত কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছিল এবং সে সময় জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা সাফ জানিয়েছিলেন যে, এই জাতীয় ট্র্যাজেডিকে তারা কখনোই রাজনৈতিক ফায়দা তোলার বা রাজ্যের মর্যাদা ফেরানোর দাবি জোরালো করার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করবেন না। তবে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পর আবদুল্লা পরিবারের এই পুরনো অবস্থান থেকে সরে এসে ফের চড়া সুরে আক্রমণ শাণিত করা রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতিকে অনেকটাই বদলে দিয়েছে।