অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে মরিয়া পুলিশ! শরৎ বোস রোডের স্পা থেকে হাতেনাতে ধরা পড়ল থাইল্যান্ডের তরুণী!

ভারতে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের চিহ্নিত করতে এবং সীমান্ত সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে রাজ্যজুড়ে নজরদারি ও তল্লাশি অভিযান আরও জোরদার করেছে পুলিশ। সেই ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবেই এবার কলকাতার একটি ঝাঁ চকচকে স্পা থেকে বৈধ নথিপত্র ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাস করার অভিযোগে থাইল্যান্ডের এক নাগরিককে আটক করা হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে খাস কলকাতার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন করে প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার বিকেলে গোপন সূত্রে সুনির্দিষ্ট খবর পেয়ে কলকাতা পুলিশের একটি বিশেষ দল শরৎ বোস রোডের ওপর অবস্থিত একটি অভিজাত স্পা’তে হঠাৎ অভিযান চালায়। সেখান থেকেই ওই বিদেশি মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। এই বিষয়ে কলকাতা পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন যে, গোটা পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ধৃতের আসল উদ্দেশ্য কী ছিল তা জানার চেষ্টা চলছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই থাই নারী ভারতে বৈধভাবে বসবাসের সপক্ষে কোনো ধরনের সদুত্তর বা নথি দেখাতে পারেননি। এরপর তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া পাসপোর্ট ও অন্যান্য কাগজপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন যে, তাঁর থাইল্যান্ডের পাসপোর্টের মেয়াদ বহু আগেই ২০২৫ সালেই ফুরিয়ে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, তাঁর ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসার মেয়াদও দীর্ঘ বছর আগে অর্থাৎ ২০২১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়ে গিয়েছিল। তা সত্ত্বেও কোনো ধরনের বৈধ অনুমতি বা সরকারি ছাড়পত্র ছাড়াই তিনি কীভাবে এত দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাস করছিলেন, তা নিয়ে গভীর রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, যেসব বিদেশি নাগরিকের ভারতে আইনিভাবে থাকার মতো বৈধ ভিসা বা প্রয়োজনীয় নথিপত্র নেই, তাঁদের কোনোক্রমেই দেশে অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হবে না। সেই কঠোর নির্দেশিকার পরিপ্রেক্ষিতেই অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের চিহ্নিত করতে কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের হোটেল, গেস্ট হাউস, স্পা, লজ এবং সন্দেহভাজন ভাড়া বাড়িতে নিয়মিত তল্লাশি ও নথি যাচাইয়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, ধৃত থাই নাগরিক ভারতে এতদিন ধরে ঠিক কী উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিলেন, তিনি দেশের অন্য কোনো রাজ্যে যাতায়াত করেছিলেন কি না, এবং তাঁর সঙ্গে কোনো দেশবিরোধী বা মানব পাচার চক্রের যোগ রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলিকেও সমস্ত তথ্য জানানো হয়েছে। সোমবার ধৃত ওই মহিলাকে কলকাতার ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (FRRO)-এর বিশেষ আদালতে পেশ করা হবে বলে জানা গেছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে টালিগঞ্জ মহিলা থানার নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়েছে।