বিয়ের ২৪ ঘণ্টা আগে পরিচারিকার সঙ্গে সম্পর্কের কথা স্বীকার! ওম পুরীর প্রথম স্ত্রীর বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড় বলিউড

প্রয়াত প্রবীণ ও প্রতিভাবান অভিনেতা ওম পুরীর ব্যক্তিগত জীবনের এক অন্ধকার ও চাঞ্চল্যকর অধ্যায় প্রকাশ্যে এনেছেন তাঁর প্রথম স্ত্রী সীমা কাপুর। সম্প্রতি একটি খোলামেলা সাক্ষাৎকারে সীমা তাঁর এবং ওম পুরীর সম্পর্কের এমন কিছু গোপন তথ্য ফাঁস করেছেন, যা শুনে রীতিমতো অবাক হয়ে গেছেন বিনোদন দুনিয়ার অনুরাগীরা। সীমার দাবি, তাঁদের বিয়ের ঠিক আগের দিন ওম পুরী তাঁকে ডেকে পাঠিয়ে নিজের অন্য এক সম্পর্কের কথা অকপটে স্বীকার করে নিয়েছিলেন, যা এক ধাক্কায় ভেঙে দিয়েছিল তাঁর সমস্ত স্বপ্ন ও আশা।

১৯৮৯ সালে বাগদান সম্পন্ন হওয়ার পর পারিবারিক বিভিন্ন চাপের মুখে পড়ে তাঁরা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু নিয়তির অদ্ভুত পরিহাসে, বিয়ের মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে ওম পুরী তাঁকে দেখা করার জন্য ডেকে পাঠান। সেই সাক্ষাতে অভিনেতা অভিনেতা সম্পূর্ণ সততার সঙ্গে স্বীকার করেন যে, তাঁর বাড়ির এক পরিচারিকার সঙ্গে তাঁর গোপন সম্পর্ক রয়েছে। এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক স্বীকারোক্তিতে মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়লেও, সেই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে বিয়ে বাতিল করার মতো কঠিন সাহস বা সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি সীমা। এর মূল কারণ হিসেবে তিনি জানান যে, সমস্ত আত্মীয়-স্বজনের মাঝে বিয়ের নিমন্ত্রণপত্র ইতিমধ্যেই বিলি হয়ে গিয়েছিল এবং পরিবারের মানসম্মান ও সামাজিক মর্যাদার কথা ভেবে তিনি শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিলেন। তবে বর্তমান প্রজন্মের নারীদের প্রশংসা করে সীমা মন্তব্য করেছেন যে, আজকের দিনে নারীরা অনেক বেশি সাহসী ও আত্মবিশ্বাসী এবং তাঁরা প্রয়োজনে বিয়ের মণ্ডপ থেকেও বেরিয়ে আসার ক্ষমতা রাখেন।

যদিও বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পরেও ওম পুরী ও সীমার দীর্ঘমেয়াদি দাম্পত্য জীবন সুখের হয়নি। পরবর্তীতে নন্দিতা পুরীর সঙ্গে অভিনেতার নতুন সম্পর্কের খবর সামনে আসায় তাঁদের সম্পর্কে চূড়ান্ত ফাটল ধরে এবং অবশেষে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। সীমা অত্যন্ত যন্ত্রণার সঙ্গে স্মরণ করেন যে, সেই অত্যন্ত সংকটজনক ও মানসিক বিপর্যস্ত সময়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং চরম মানসিক আঘাতের জেরে শেষ পর্যন্ত তাঁর গর্ভপাতও ঘটে গিয়েছিল।

তিনি আরও জানান যে, তিনি যখন ব্যক্তিগত কারণে দিল্লিতে ছিলেন, সেই সময় এক দিন ওম পুরী তাঁকে সরাসরি ফোন করে জানান যে তিনি অন্য এক মহিলাকে ভালোবাসেন। এই খবর শুনে তাঁর পুরো পৃথিবী যেন থমকে গিয়েছিল। সীমা বলেন, “সেই সময়ে আমি অন্তঃসত্ত্বা ছিলাম এবং আমার মন সম্পূর্ণ ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছিল। এর ঠিক পরপরই আমাকে ডিভোর্সের কাগজপত্র পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেই মানসিক চাপ ও তীব্র আতঙ্কের কারণে মাত্র পাঁচ-ছয় মাসের গর্ভাবস্থায় আমি আমার অনাগত সন্তানকে চিরতরে হারিয়ে ফেলি। আমার জীবনের এই মর্মান্তিক দুঃখের কথা আমি এতদিন কারও সঙ্গে ভাগ করে নিইনি। এমনকি আমার বাবা-মায়ের কাছেও কখনও নিজের মনের সেই চরম বিপর্যস্ত অবস্থা প্রকাশ করিনি। আমি সারাজীবন শুধু এই অপেক্ষায় ছিলাম যে একদিন ওম নিজের ভুল বুঝতে পেরে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে। কিন্তু সে বেঁচে থাকা অবস্থায় কোনোদিন আমার কাছে মাথা নত করেনি।” প্রয়াত অভিনেতার জীবনের এই গোপন ও মর্মান্তিক সত্যি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই বলিউড পাড়ায় নতুন করে তীব্র চাঞ্চল্য ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।