বাঁকিপুরে কি উলটপুরাণ! বিজেপিকে জোর ধাক্কা দিয়ে প্রথমবার ভোটেই কি বাজিমাত করছেন প্রশান্ত কিশোর?

বিহারের অত্যন্ত হেভিওয়েট ও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ভোটগণনা ঘিরে গোটা রাজ্যে চরম উত্তেজনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। প্রথমবার সরাসরি নির্বাচনী ময়দানে নেমেই চমকপ্রদ ট্রেন্ড উপহার দিয়েছেন ‘জন সুরাজ পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা ও শীর্ষ নেতা প্রশান্ত কিশোর। সোমবার সকাল আটটা থেকে পাটনার এএন কলেজে কঠোর ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ভোটগণনা শুরু হয়েছে। আর প্রাথমিক দফার ট্রেন্ড সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে ঝড় উঠেছে, কারণ দীর্ঘদিনের গেরুয়া শিবিরকে পেছনে ফেলে একেবারে শুরু থেকেই তরতর করে এগিয়ে গিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর।

নির্বাচন কমিশন ও প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের এই উপনির্বাচনে প্রথম দফার গণনা শেষে প্রশান্ত কিশোরের ঝুলিতে এসেছে মোট ৬,২৬৯টি ভোট। অন্যদিকে, ঠিক তাঁর পরেই লড়াইয়ে থাকা শাসক দল বিজেপির প্রার্থী নীরজ কুমার সিনহা পেয়েছেন ৫,১২৪টি ভোট। ফলে প্রথম রাউন্ডেই প্রশান্ত কিশোর ১,১৪৫ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। পাশাপাশি, এই ত্রিমুখী লড়াইয়ে মাঠে রয়েছেন মহাজোটের শরিক তথা আরজেডি প্রার্থী রেখা গুপ্তাও, যিনি প্রাথমিক ধাপে ৮৮৪টি ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছেন। এই প্রাথমিক ট্রেন্ড পরিষ্কার করে দিচ্ছে যে, বাঁকিপুরের এই উপনির্বাচনে মূল লড়াই মূলত প্রশান্ত কিশোর ও বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গেই হতে চলেছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সাল থেকেই বাঁকিপুর বিধানসভা আসনটি অবিভক্তভাবে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি বা ‘গেরুয়া দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু এবার কি তবে পিকে-র জাদুতে সেই দীর্ঘদিনের একাধিপত্য ভাঙতে চলেছে? প্রসঙ্গত, বিজেপির প্রভাবশালী নেতা তথা সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পরই বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রটি বিধায়কশূন্য হয়ে পড়েছিল, যার ফলেই এই উপনির্বাচনের উপক্রম হয়। এই হাই-ভোল্টেজ বাই-পোলে বিজেপি তরুণ মুখ নীরজ কুমার সিনহাকে প্রার্থী করেছে। অন্যদিকে, আরজেডি প্রার্থী রেখা গুপ্তা এর আগেও এই আসনে লড়েছিলেন এবং বিগত বিধানসভা নির্বাচনে নীতিন নবীনের কাছে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন।

গত ৩০ জুলাই বাঁকিপুর কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের উপনির্বাচনে মোট ৩৪.৩০ শতাংশ ভোটগ্রহণ রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ৪১.৪৫ শতাংশের তুলনায় কিছুটা কম। এদিকে, ভোটগণনা শুরুর ঠিক প্রাক্কালে অর্থাৎ রবিবার গভীর রাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে মারাত্মক সব অভিযোগ তুলে এক সাংবাদিক বৈঠক করেন প্রশান্ত কিশোর। তাঁর সরাসরি অভিযোগ ছিল, তাঁর দলের বহুনিষ্ঠ কর্মীকে বেআইনিভাবে আটক করা হয়েছে এবং সাধারণ ভোটারদের বিভিন্নভাবে ভয় দেখানো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অজুহাত দেখিয়ে বাইরের জেলা থেকে আসা জন সুরাজ পার্টির কর্মীদের পুলিশ হেনস্থা করছে বলেও দাবি করেন তিনি। সেই বৈঠকে কয়েকজন আটক কর্মীকেও সাংবাদিকদের সামনে হাজির করেছিলেন পিকে।

যদিও ভোট결ফ প্রকাশের বহু আগে থেকেই তিনি নিজের জয়ে সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। আত্মবিশ্বাসের সুরে পিকে এর আগে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন যে, এই নির্বাচনে বিজেপি অত্যন্ত বড় ব্যবধানে পরাজিত হবে। এই আসনে মোট ২৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও আসল লড়াই যে ত্রিমুখী, তা বলাই বাহুল্য। মোট ৩১ দফার গণনার পর এখন চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে পুরো দেশ। বাঁকিপুরের এই উপনির্বাচন আগামী দিনে বিহারের রাজনৈতিক সমীকরণকে কোন দিকে মোড় দেয়, এখন সেটাই দেখার।