‘২৬-এ তৃণমূল শূন্য! গোল্লা নিয়ে বাড়ি যাবেন মমতা’, শুভেন্দুর বিস্ফোরক চ্যালেঞ্জ, পাল্টা ‘১ লাখ ভোটে হারানোর’ হুঙ্কার তৃণমূলের

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে। মুর্শিদাবাদের বড়ঞায় ‘পরিবর্তন সংকল্প সভা’ থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ঘোষণা করেন, “ছাব্বিশে শূন্য করব। গোল্লা নিয়ে বাড়ি যাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।”

২০১১ সালে বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্যে পরিবর্তন এসেছিল। সেই সময় শুভেন্দু অধিকারী তাঁর অন্যতম সহযোগী ছিলেন। তবে এখন সেসব অতীত। অতীতের রাজনৈতিক সমীকরণ পাল্টে গিয়ে বর্তমানে শুভেন্দু অধিকারীই তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রধান বিরোধী মুখ।

ভবানীপুর নিয়ে পাল্টাপাল্টি চ্যালেঞ্জ

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ভবানীপুর কেন্দ্রটি বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রে থাকে, কারণ এই কেন্দ্রের বিধায়ক খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন সেই ভবানীপুর নিয়েই মুখ্যমন্ত্রীকে ফের হারানোর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “একদম ভয় পাবেন না। আমি শুভেন্দু অধিকারী, বিরোধী দলনেতা আছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমি হারিয়েছি। ২৬-এ ভবানীপুরে হারাব।” এর পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, এই জেলাতে তৃণমূল কংগ্রেস রাজনীতিকে ব্যবসায় পরিণত করেছে এবং সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বীজ বপণ করেছে।

পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছে তৃণমূলও। তৃণমূল কংগ্রেস মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী শুভেন্দু অধিকারীকে সরাসরি ভবানীপুর কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। তিনি হুঙ্কার দেন, “শুভেন্দু অধিকারীকে চ্যালেঞ্জ করছি ক্ষমতা থাকলে ভবানীপুরে দাঁড়ান। এক লাখ ভোটে হারাব। এলেবেলে তেলে কে দাঁড় করিয়ে দিয়ে নিজে কেটে পড়বেন না। ক্ষমতা থাকলে দাঁড়ান বুঝে নেব।” অরূপ চক্রবর্তী আরও বলেন, ২০২৬-এ বিজেপি আর বিরোধী দলও থাকবে না। গতবার ৭৭টা পেয়েছিল, এবার ২৭টাও পাবে না।

প্রতিশ্রুতি ও বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া

বিরোধী দলনেতা তাঁর সভায় একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতিও দেন। তিনি বলেন, বিজেপিকে প্রতিষ্ঠিত করব, লড়াই আরও তীব্র হবে, প্রতিরোধ গড়ে তুলবো। তিনি প্রত্যেক শিক্ষিত যুবককে চাকরি এবং পরিযায়ীদের বাড়ি ফেরানোরও প্রতিশ্রুতি দেন।

অন্যদিকে, এই প্রতিশ্রুতি এবং পাল্টাপাল্টি চ্যালেঞ্জের ঘটনাকে কটাক্ষ করেছেন বাম নেতৃত্ব। সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, “তৃণমূল-বিজেপি পাশা খেলছে। তৃণমূলও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এখন কী হচ্ছে? শুভেন্দুরা কি ত্রিপুরায় চাকরি দিয়েছে? বরং অসমে এনআরসি-তে অনেকের নাম বাদ দিয়েছে।” পশ্চিমবঙ্গে ভোট মানেই বিরোধীদের মুখে পরিবর্তনের কথা। ২০২৬-এ কী হবে, তার উত্তর পেতে অপেক্ষা আর কয়েক মাসের।