‘হাত কেটে নেওয়ার হুমকি!’ দলীয় নেতার বিরুদ্ধে সরাসরি ষড়যন্ত্রের বিস্ফোরক অভিযোগ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

কেন্দ্রীয় উপজাতি বিষয়ক মন্ত্রী তথা বিশিষ্ট বিজেপি নেতা জুয়েল ওরাম শুক্রবার নিজেরই দলের বেশ কিছু শীর্ষস্থানীয় সহযোগীর বিরুদ্ধে এক গুরুতর ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক মহলে প্রবল চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন। তাঁর স্পষ্ট দাবি, দলেরই একটি অংশ তাঁর রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এবং তাঁকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে অপসারিত করার উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে এক সুপরিকল্পিত গোপন ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, এই ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুংকার দিয়ে তিনি এও বলেছেন যে তাদের এই অশুভ অভিসন্ধি বাস্তবায়িত হলে তাদের হাত কেটে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত শক্তি ও ক্ষমতা তাঁর রয়েছে। ওড়িশার রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এখন তুমুল শোরগোল শুরু হয়েছে।

মূলত ওড়িশার রাউরকেলা এলাকায় একটি চাঞ্চল্যকর সংগঠিত অপরাধের মামলার সঙ্গে ওরামের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগী রাকেশ পাসওয়ানের নাম জড়িয়ে পড়ার পরেই এই তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। রাকেশ পাসওয়ানকে পুলিশ স্টিল সিটির একটি সরকারি গেস্ট হাউসে দাগী অপরাধীদের বেআইনিভাবে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করেছে। যদিও পাসওয়ান তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অপরাধমূলক অভিযোগ একসরে খারিজ করে দিয়েছেন। এর আগে ওরাম নিজে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে আইনের নিজস্ব গতিতে পাসওয়ানের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করায় তাঁর বিন্দুমাত্র কোনো আপত্তি নেই। তবে পরবর্তীতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বোমা ফাটান যে তাঁর নিজের দলেরই কিছু উচ্চাভিলাষী নেতা এই পুরো পরিস্থিতিকে ঢাল বানিয়ে তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার ধ্বংস করতে নেমেছেন।

সংবাদমাধ্যমের সামনে বিস্ফোরক সুরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দাবি করেন যে, বিগত কিছু দিন ধরে বেশ কিছু কুচক্রী ব্যক্তি তাঁকে জনসমক্ষে হেয় প্রতিপন্ন করতে এবং মন্ত্রিসভায় তাঁর বর্তমান অবস্থানকে দুর্বল করতে দেদার অর্থ জল ঢালছেন। তাঁদের একমাত্র উদ্দেশ্য হল ওরামকে পদচ্যুত করে নিজে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হওয়ার পথ প্রশস্ত করা। ওড়িশার জনবহুল আদিবাসী অধ্যুষিত সুন্দরগড় লোকসভা কেন্দ্র থেকে টানা ছয়বার বিজয়ী সাংসদ জুয়েল ওরাম আরও জানান যে তিনি এর আগে স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত কারণে আর কখনও লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও দলীয় কোন্দলের এই বিষাক্ত পরিবেশ তাঁকে সেই সিদ্ধান্ত বদল করতে বাধ্য করেছে।

সাংবাদিক বৈঠকে ওরাম দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেন যে বর্তমান প্রতিকূল পরিস্থিতি ও ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করতে তিনি আগামী ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনেও প্রার্থী হবেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা চালিয়ে যাবেন। তাঁর বিরুদ্ধে পর্দার আড়ালে থেকে কারা এই নোংরা প্রচার চালাচ্ছে, তাদের আসল মুখ তিনি শীঘ্রই প্রকাশ্যে আনবেন বলে জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে তিনি রাজ্য বিজেপি সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের কাছেও এই চাঞ্চল্যকর বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত অভিযোগ জানিয়েছেন এবং কড়া পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন।