“আগ্নেয়গিরির মতো বিকট শব্দ!”-হড়পা বাণ থেকে অলৌকিক উপায়ে প্রাণে বাঁচলেন ২১ জন

আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণের মতো বিকট শব্দ! চারপাশ কাঁপিয়ে পাহাড়ি রাস্তায় আছড়ে পড়েছিল সর্বগ্রাসী হড়পা বান। তীর্থযাত্রায় যাওয়ার পথে বাসে থাকা অবস্থাতেই এই মারাত্মক দুর্যোগের মুখে পড়েছিলেন তামিলনাড়ুর এক দল পর্যটক। তবে চরম বিপদের মুখেও এক অদ্ভুত বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতা তাঁদের প্রাণ বাঁচিয়ে দিল। পাহাড় বেয়ে উপরে উঠে আসাই অবশেষে রক্ষা করল তামিলনাড়ুর ২১ জন তীর্থযাত্রীকে।
শুক্রবার তাঁরা যখন নিরাপদে চেন্নাই বিমানবন্দরে এসে পৌঁছন, তখনো তাঁদের চোখে-মুখে খেলা করছে তীব্র আতঙ্কের ছাপ। সেই ভয়াল স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে দলেরই এক সদস্য বলেন, ‘কী করে বেঁচে ফিরলাম, আজও জানি না। এটা অলৌকিক রক্ষা ছাড়া আর কিছুই নয়!’ দুর্ঘটনার সেই ভয়ঙ্কর মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে মহিলা সদস্য বিজয়ভুবনেশ্বরী জানান, তিনটি বাসে করে তাঁরা যাচ্ছিলেন এবং তাঁদের বাসটি ছিল ঠিক মাঝখানে। সেই সময়ই আচমকা আগ্নেয়গিরি ফাটার মতো বিকট শব্দ হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে পাহাড়ি ঢাল বেয়ে প্রবল বেগে বান নেমে আসে। তাঁদের বাসটি বাকি দুটি বাসের মাঝখানে আটকে পড়েছিল। জীবন বাঁচাতে তাঁরা কোনোমতে বাসের ছাদে উঠে পড়েন এবং সেখান থেকে প্রাণপণ পায়ে হেঁটে পাহাড় বেয়ে উপরের দিকে উঠতে শুরু করেন। উপরে থাকা একটি পুলিশের চৌকির সহায়তায় শেষ পর্যন্ত তাঁরা রক্ষা পান। বিজয়ভুবনেশ্বরী জানান, সেসময় মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তাঁর কেবল মেয়ের কথাই বারবার মনে হচ্ছিল।
ওই দলেরই আরেক মহিলা সদস্য কিরুবাথিরি জানান, এই ঘটনা তাঁদের কাছে আক্ষরিক অর্থেই পুনর্জন্মের সমান। জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতা যে কতটা মর্মান্তিক হতে পারে, তা এ যাত্রায় তাঁরা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেন।
এদিকে নেপালের সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নতুন করে হিমবাহ গলে হ্রদ তৈরি হওয়ায় যে কোনো মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে ফের হড়পা বানের আশঙ্কা প্রকাশ করে কাঠমাণ্ডুকে সতর্ক করেছে চিন। হিমালয়ের দক্ষিণ ঢালে এই বিপদের নতুন ভূগোলে একদিকে যখন উদ্ধারকাজ চলছে, অন্যদিকে তখন পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎপর প্রশাসন। তামিলনাড়ুর স্কুল শিক্ষামন্ত্রী রাজ মোহন জানিয়েছেন, সে রাজ্য থেকে মোট ৪০০ জন তীর্থযাত্রী নেপালে গিয়েছিলে, যার মধ্যে এখনও পর্যন্ত ১৪০ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। নিখোঁজ যাত্রীদের দ্রুত খুঁজে বের করতে এবং পরিস্থিতির ওপর কড়া নজরদারি চালাতে দিল্লির আসরে চার মন্ত্রীর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে তামিলনাড়ু সরকার। উদ্ধারকাজের তদারকি করে জলসম্পদ মন্ত্রী বুসি আনন্দ আশ্বাস দিয়েছেন যে, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আটকে থাকা মানুষদের ফিরিয়ে আনতে সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে।