২৫ শিশুর মৃত্যু! কাশির সিরাপে মারাত্মক বিষ, ED-র হাতে চাঞ্চল্যকর প্রমাণ! তামিলনাড়ুর ফার্মাসিউটিক্যালসের দুর্নীতিতে কেঁপে উঠল দিল্লি

মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থান-সহ একাধিক রাজ্যে প্রায় দু’ডজন শিশুর মৃত্যুর কারণ হওয়া বিষাক্ত ‘কোল্ড্রিফ’ কাশির সিরাপ কাণ্ডে এবার কঠোর পদক্ষেপ নিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে সোমবার চেন্নাই জুড়ে স্রেসান ফার্মাসিউটিক্যালস এবং সংশ্লিষ্ট আরও সাতটি ঠিকানায় একযোগে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
ইডি আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই কাফ-সিরাপ কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে স্রেসান ফার্মাসিউটিক্যালসের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই অভিযানের লক্ষ্যবস্তুতে রয়েছে তামিলনাড়ুর সিনিয়র ড্রাগ কন্ট্রোল অফিসারদের বাড়িও।
মালিক গ্রেফতার, পর্দাফাঁস হলো মারাত্মক অনিয়মের:
গত সপ্তাহেই স্রেসান ফার্মাসিউটিক্যালসের মালিক রঙ্গনাথন গোবিন্দনকে গ্রেফতার করা হয় এবং তিনি বর্তমানে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে যে, ‘কোল্ড্রিফ’ সিরাপে “বিপজ্জনক” ভেজাল হিসেবে অত্যন্ত বিষাক্ত পদার্থ মেশানো হয়েছিল। কাঞ্চিপুরম-ভিত্তিক এই সংস্থার তামিলনাড়ু প্ল্যান্টে ৩৫০টিরও বেশি নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা নজরে এসেছে, যার মধ্যে ৩৮টি অত্যন্ত গুরুতর।
সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (CDSCO) জানিয়েছে, ২০১১ সালে লাইসেন্সপ্রাপ্ত এই ফার্মা কোম্পানিটি দুর্বল পরিকাঠামো এবং জাতীয় ওষুধ সুরক্ষা বিধির একাধিক লঙ্ঘন সত্ত্বেও এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বেআইনিভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল। যদিও তামিলনাড়ু ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA) ২০১৬ সালে এই লাইসেন্স নবীকরণ করেছিল, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
দেশজুড়ে নিষিদ্ধ হলো বিষাক্ত সিরাপ, WHO-এর উদ্বেগ:
মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, তামিলনাড়ু এবং দিল্লি-সহ অনেক রাজ্য ইতিমধ্যেই ‘কোল্ড্রিফ’ সিরাপ নিষিদ্ধ করেছে। তামিলনাড়ু সরকার সংস্থাটি বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে এবং খুব শীঘ্রই লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছে।
এদিকে, ভেজাল কাশির সিরাপের কারণে শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। হু জানিয়েছে, ভারতে স্থানীয়ভাবে বাজারজাত ওষুধের জন্য ডাইথাইলিন গ্লাইকল এবং ইথিলিন গ্লাইকলের স্ক্রিনিংয়ে “নিয়ন্ত্রক ব্যবধান” রয়েছে। এর ফলে দূষিত পণ্য অন্যান্য দেশেও রপ্তানি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। হু এই বিষয়ে স্পষ্টীকরণের জন্য CDSCO-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, “দূষিত পণ্য অন্যান্য দেশে রপ্তানির সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং ভারতে স্থানীয়ভাবে বাজারজাত ওষুধের জন্য DEG/EG স্ক্রিনিংয়ের নিয়ন্ত্রণ ঘাটতি” নিয়ে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তারা দ্রুত দূষণের উৎস চিহ্নিত করা এবং বাজারে থাকা সমস্ত দূষিত ওষুধের উপাদান সরিয়ে ফেলার উপর জোর দিয়েছে।
সংবাদ সম্পাদক হিসেবে আমার পরামর্শ: শিরোনামগুলি সংক্ষিপ্ত, ক্লিকযোগ্য এবং কৌতূহল জাগানিয়া রাখা হয়েছে। মূল সংবাদে তথ্যগুলি সাজিয়ে পেশাদারী ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে এবং ইডি-র পদক্ষেপ, গ্রেফতার এবং WHO-এর উদ্বেগ – এই গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলিকে হাইলাইট করা হয়েছে। এটি DailyHunt-এর প্ল্যাটফর্মে পাঠককে আকৃষ্ট করবে এবং ভাইরাল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়াবে।