মার্চ ২০২৬ ত্রৈমাসিকের ফলাফল প্রকাশ হতেই ভারতীয় শেয়ার বাজারে শোরগোল ফেলে দিয়েছে ই-কমার্স জায়ান্ট মিশো (Meesho)। একদিকে কোম্পানির আয়ে অভাবনীয় বৃদ্ধি, অন্যদিকে লোকসানের বহর কমে আসা—এই জোড়া খুশিতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার লেনদেন চলাকালীন মিশো-র শেয়ারের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে যায়, যা বিনিয়োগকারীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। কিন্তু এই উল্লাসের মাঝেই দানা বাঁধছে এক নতুন বিতর্ক। বিশেষজ্ঞরা কি এই উত্থানকে দীর্ঘস্থায়ী মনে করছেন?
আয়ের গ্রাফে বিশাল চমক:
২০২৬ সালের মার্চ ত্রৈমাসিকে মিশো-র আর্থিক খতিয়ান বলছে, কোম্পানিটির পরিচালন আয় গত বছরের তুলনায় ৪৭.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩,৫৩১.২ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো, কোম্পানির নিট লোকসান ১,৩৯১ কোটি টাকা থেকে কমে মাত্র ১৬৬.৩ কোটিতে নেমে এসেছে। আপাতদৃষ্টিতে এটি একটি বিশাল সাফল্য মনে হলেও, এর ভেতরে লুকিয়ে আছে অন্য একটি হিসাব। গত বছর কোম্পানির লোকসানের অংকে একটি বড় ‘অস্বাভাবিক’ খরচ যুক্ত ছিল। সেই অঙ্কটি বাদ দিলে দেখা যাচ্ছে, প্রকৃতপক্ষে কোম্পানির পরিচালন লোকসান ২৩০.৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২৫৪.৭২ কোটি টাকা হয়েছে। অর্থাৎ, ব্যবসার পরিধি বাড়লেও খরচ নিয়ন্ত্রণে এখনো হিমশিম খাচ্ছে সংস্থাটি।
নগদ প্রবাহ নিয়ে দুশ্চিন্তা:
শেয়ার বাজার বিশেষজ্ঞরা সাধারণত কোম্পানির ‘ফ্রি ক্যাশ ফ্লো’ বা হাতে থাকা নগদ টাকার ওপর নজর রাখেন। মিশো-র ক্ষেত্রে এই পরিসংখ্যানটি কিছুটা উদ্বেগের। গত ১২ মাসের হিসেবে কোম্পানির ফ্রি ক্যাশ ফ্লো ৫৯১ কোটি টাকার লাভ থেকে কমে বর্তমানে ৬৩৩ কোটি টাকার লোকসানে (নেতিবাচক) দাঁড়িয়েছে। যদিও কন্ট্রিবিউশন মার্জিন আগের ত্রৈমাসিকের তুলনায় সামান্য উন্নতি করে ৪ শতাংশে পৌঁছেছে, কিন্তু এটি এখনো প্রত্যাশিত মাত্রার চেয়ে কিছুটা নিচে।
ব্রোকারেজ ফার্মের সতর্কবার্তা:
বাজারের এই রমরমা পরিস্থিতির মধ্যেই জল ঢেলেছে প্রখ্যাত ব্রোকারেজ সংস্থা এইচএসবিসি (HSBC)। যদিও তারা মিশো-র শেয়ারের লক্ষ্যমাত্রা ১৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৮৫ টাকা করেছে, কিন্তু বর্তমানে শেয়ারটি ২০০ টাকার উপরে লেনদেন হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের ‘হোল্ড’ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, এই দামে নতুন করে বিনিয়োগ করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তবে এইচএসবিসি আশাবাদী যে, ২০২৭ অর্থবর্ষের মধ্যে উন্নত লজিস্টিকস এবং বিজ্ঞাপনের আয়ের ওপর ভর করে কোম্পানিটি লাভের মুখ দেখবে।
বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘ যাত্রা:
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ১১১ টাকা ইস্যু প্রাইসে আইপিও এনেছিল মিশো। লিস্টিংয়ের দিনই তা ৪৬% প্রিমিয়ামে আত্মপ্রকাশ করে এবং ২৫৪.৬৫ টাকার শিখর ছুঁয়েছিল। আজকের ২০২ টাকার গণ্ডি পার করা সেই সাফল্যেরই পুনরাবৃত্তি কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





