“বুকের খুব কাছ থেকে ট্রিগার টিপেছিল”, বিজেপি কর্মীকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি, বিস্ফোরক সব তথ্য

ভরসন্ধেয় জনবহুল এলাকায় দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব এবং এক বিজেপি কর্মীকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালানোর ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বড় সাফল্য পেল বসিরহাট থানার পুলিশ। বুধবার রাতের হাড়হিম করা ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মূল অভিযুক্ত জাহিনুর গাজিকে গ্রেফতার করল পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে ধৃতকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে গোটা ঘটনার পুনর্নির্মাণ (Reconstruction) সম্পন্ন করল তদন্তকারীরা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাত ১০টা নাগাদ বসিরহাটের ময়লাখোলা স্টেশন সংলগ্ন গোডাউন পাড়ায় বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন বিজেপি কর্মী রোহিত রায় ওরফে চিন্টু। অভিযোগ, সেই সময়ই বাইকে করে এসে একদল দুষ্কৃতী তাঁর ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। একদম কাছ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন রোহিত। তাঁকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় রাতেই কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে সেখানেই মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তিনি।

তদন্তে নেমে দ্রুততার সঙ্গে পদক্ষেপ করে বসিরহাট পুলিশ জেলার বিশেষ দল। রাতেই সন্দেহভাজন হিসেবে জাহিনুর গাজিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। বসিরহাট পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ ঘোষ জানান, ম্যারাথন জেরায় ধৃত জাহিনুর ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছে। বৃহস্পতিবার তাকে নিয়ে গোডাউন পাড়া এলাকায় যায় পুলিশ। অপরাধের মোটিভ এবং ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটির খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। অভিযুক্তরা কোন পথে পালিয়েছিল, তা ম্যাপ করার চেষ্টা করছে পুলিশ।

এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বসিরহাটের রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে উঠেছে। পরাজিত বিজেপি প্রার্থী শৌর্য বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের দিকে আঙুল তুলে অভিযোগ করেছেন, “এলাকায় তৃণমূল ঘনিষ্ঠ ভোলা আর বুদ্ধ নামের দুই দুষ্কৃতী রাজত্ব চালাচ্ছে। মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?” যদিও তৃণমূল এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। হাসপাতাল থেকে বিজেপি কর্মী রোহিত অভিযোগ করেন, এলাকায় বিজেপির পতাকা লাগানোকে কেন্দ্র করেই জাইনুল ও তার সঙ্গীরা তাঁর ওপর হামলা করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, রাজনৈতিক শত্রুতার পাশাপাশি ব্যক্তিগত কোনও বিবাদ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।