২০ দিনের অনশন শেষে হাসপাতালে সোনম ওয়াংচুক, যন্তর মন্তরে ব্যাপক উত্তেজনা!

দীর্ঘ ২০ দিনের অনশন। অবশেষে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হওয়ায় দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে সমাজসেবী সোনম ওয়াংচুককে সরিয়ে হাসপাতালে নিয়ে গেল দিল্লি পুলিশ। শনিবার ভোরে পুলিশি হস্তক্ষেপে তাঁকে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যন্তর মন্তরে ব্যাপক হট্টগোল ও বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত ২০ জুন থেকে অনশনে বসেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল দিল্লি হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশ ছিল, ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার ওপর যেন নিয়মিত নজর রাখা হয় এবং প্রয়োজনে উপযুক্ত চিকিৎসা প্রদান করা হয়। আদালতের সেই নির্দেশ মেনেই শনিবার ভোরে দিল্লি পুলিশ সক্রিয় হয়ে ওঠে।
দিল্লি পুলিশের ডিসিপি এক্স (সাবেক টুইটার)-এ জানিয়েছেন, “হাইকোর্টের নির্দেশ ও চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।” যদিও পুলিশি এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র কর্মীরা। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
হাসপাতালে ভর্তির পর সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, তাঁর বা পরিবারের সম্মতি এবং এতদিন ধরে যে চিকিৎসকরা সোনমের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করছিলেন, তাঁদের পরামর্শ ছাড়া কোনো চিকিৎসা বা ওষুধ যেন ওয়াংচুককে না দেওয়া হয়।
হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার এই ঘটনাকে ‘বর্বরোচিত’ বলে অভিহিত করেছেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দপকে। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ তাঁকে মারধর করে আটক করেছে। দপকে বলেন, “এতদিন আমাদের দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। কিন্তু এই অগণতান্ত্রিক আচরণের পর এখন আমরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পদত্যাগের দাবিও তুলছি।”
সোনমকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও আন্দোলন থামছে না বলে সাফ জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। ২০ জুলাই, সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই সংসদের উদ্দেশে বড় ধরনের পদযাত্রা হবে বলে ঘোষণা করেছেন তাঁরা। কেজরিওয়াল থেকে শুরু করে বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতা ইতিমধ্যে ওয়াংচুকের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। সোনমকে সরিয়ে দিলেও এই আন্দোলন যে নতুন রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।