২০৪৭-এর লক্ষ্য ভারতীয় বায়ুসেনার, আত্মনির্ভরতা ও মহাকাশ-ভিত্তিক ক্ষমতার ওপর জোর!

ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF) তাদের ৯৩তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে ২০৪৭ সালের একটি উচ্চাভিলাষী রোডম্যাপ প্রকাশ করেছে, যা দেশের প্রতিরক্ষা কৌশলকে নতুন রূপ দিতে চলেছে। এই রোডম্যাপটি আকাশ থেকে মহাকাশ পর্যন্ত বিমান বাহিনীকে একটি শক্তিশালী এবং স্বনির্ভর বাহিনীতে রূপান্তরিত করার একটি দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করে। বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এ.পি. সিং স্পষ্ট জানিয়েছেন যে ভারতকে পরাশক্তি হতে হলে স্বনির্ভরতা অপরিহার্য।

এই নতুন পরিকল্পনায় দেশীয় উৎপাদন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং মহাকাশ-ভিত্তিক ক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত করার রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।

প্রযুক্তি ও গবেষণা-উন্নয়ন (R&D) মূল ভিত্তি
রোডম্যাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো গবেষণা ও উন্নয়নের (R&D) ওপর জোর দেওয়া। ভবিষ্যতে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য ভারতকে বিমান ইঞ্জিন, AESA রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি এবং এভিওনিক্সে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে বলে মনে করে বিমান বাহিনী।

অর্থনৈতিক বরাদ্দ: সরকার গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য DRDO-কে ১৪,৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।

দেশীয় S-400: ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় রাশিয়ান S-400 বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাফল্যের পর, বায়ুসেনা আগামী দশকে এর দেশীয় সংস্করণ তৈরির লক্ষ্য নিয়েছে।

বহরের ক্ষমতা: ৬০ স্কোয়াড্রন ও ৫০০-র বেশি দেশীয় যুদ্ধবিমান
রোডম্যাপ অনুসারে, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতীয় বিমান বাহিনীর বহরে ৫৭ থেকে ৬০টি স্কোয়াড্রন অর্থাৎ প্রায় ১,০০০ থেকে ১,২০০টি যুদ্ধবিমান থাকবে। এই বহর তৈরির ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে:

এলসিএ তেজস: এই বহরে ৩০০টি এলসিএ তেজস বিমান থাকবে।

রাফালে ও এএমসিএ: ১১৪টি নতুন রাফালে জেট (যা ‘মেক ইন ইন্ডিয়ার’ অধীনে উৎপাদিত হবে) এবং AMCA (অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট)—ভারতের পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ মাল্টি-রোল জেট (প্রায় ১৮০-২০০ বিমান) অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

আপগ্রেডেশন: বিমান বাহিনী তার বিদ্যমান ২৭০টি Su-30MKI বিমানও আপগ্রেড করতে চলেছে।

বিমান ও মহাকাশ বাহিনী হওয়ার দিকে পদক্ষেপ
আইএএফ এখন নিজেকে ভারতীয় বিমান ও মহাকাশ বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। ভারতের মহাকাশ সম্পদ রক্ষার জন্য তার মহাকাশ-ভিত্তিক নজরদারি, নেভিগেশন এবং পাল্টা-মহাকাশ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

AI ও ইউসিএভি: কমান্ড, কন্ট্রোল এবং অপারেশনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) অন্তর্ভুক্ত করার জন্য একটি বিশেষ AI রোডম্যাপের কাজ চলছে। পাশাপাশি, মানবচালিত যুদ্ধবিমানের পরিপূরক হিসেবে মারাত্মক মানবহীন যুদ্ধ ড্রোন (ইউসিএভি) তৈরিতে DRDO-কে পূর্ণ সমর্থন করছে IAF।

পরিবহন বহর: পরিবহন বহরকে শক্তিশালী করতে টাটা-এয়ারবাস ভারতে C-295 বিমান তৈরি করছে। ভবিষ্যতে পুরনো Mi-17 হেলিকপ্টারগুলির বদলে ইন্ডিয়ান মাল্টি-রোল হেলিকপ্টার (IMRH) তৈরি করা হবে।

সব মিলিয়ে, ভারতীয় বিমান বাহিনীর ২০৪৭ সালের এই দৃষ্টিভঙ্গি কেবল সামরিক সক্ষমতাই বাড়াবে না, বরং আগামী কয়েক দশক ধরে দেশের আকাশ ও মহাকাশ নিরাপত্তাকেও শক্তিশালী করবে।