২০২৬ বিধানসভার প্রস্তুতি, তৃণমূলের ঘাঁটিতে পাল্টা লড়াই, বাংলা জয়ে বিজেপির ‘ছয় সাংগঠনিক জোন’ কৌশল

বিহারে বড় সাফল্যের পর এবার পশ্চিমবঙ্গের দিকে পূর্ণ মনোযোগ দিয়েছে বিজেপি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে লক্ষ্য করে দলীয় সাংগঠনিক কাঠামোকে শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এক নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটিতে সরাসরি পাল্টা লড়াই দিতে এবং বুথস্তরে সংগঠন মজবুত করতে, রাজ্যকে ছয়টি সাংগঠনিক জোনে ভাগ করে ভিনরাজ্যের অভিজ্ঞ নেতা ও মন্ত্রীদের জেলা ধরে ধরে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিজেপি সূত্রের দাবি, ২০২১ সালে ‘দুশো পার’ স্লোগান তুলে যে সাংগঠনিক ভুল হয়েছিল, এবার তা সংশোধন করে কোনও বাড়তি প্রচার ছাড়াই চুপচাপ বুথ মজবুত করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

ছয় সাংগঠনিক জোনে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তরা

 

সাংগঠনিক জোনঅন্তর্ভুক্ত জেলা/এলাকাদায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা (ভিনরাজ্য)মূল লক্ষ্য
১. রাঢ় বঙ্গবাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমানপবন সাই (ছত্তীসগড়), ধন সিং রাওয়াত (উত্তরাখণ্ড)উন্নয়ন, জলসংকট ইস্যুকে সামনে রেখে সংগঠন চাঙা করা।
২. হাওড়া–হুগলি–মেদিনীপুরহাওড়া, হুগলি (পবন রানা-দিল্লি), দুই মেদিনীপুর (জে পি এস রাঠৌর-ইউপি)পবন রানা, সঞ্জয় ভাটিয়া (হরিয়ানা), জে পি এস রাঠৌর (ইউপি)নন্দীগ্রাম-তমলুক বেল্ট এবং ঘনবসতিপূর্ণ হুগলি-হাওড়ার বুথ শক্তিশালী করা।
৩. কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগণাকলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগণাএম সিদ্ধার্থন (হিমাচল প্রদেশ), সিটি রবি (কর্ণাটক)তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে দুর্বল বুথগুলো পুনর্গঠন।
৪. নবদ্বীপ ও উত্তর ২৪ পরগণানবদ্বীপ ও উত্তর ২৪ পরগণা (মতুয়া এলাকা)এন মধুকর (অন্ধ্রপ্রদেশ), সুরেশ রানা (উত্তরপ্রদেশ)মতুয়া সমাজের সঙ্গে স্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তোলা ও বুথ নেটওয়ার্ক বাড়ানো।
৫. উত্তরবঙ্গ (মালদহ ও শিলিগুড়ি)মালদহ, শিলিগুড়িঅনন্ত নারায়ণ মিশ্র (অরুণাচল), অরুণ বিন্নাড়ি (কর্ণাটক)তৃণমূলের প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় সাংগঠনিক দুর্বলতা দূর করা।
৬. দার্জিলিং ও কোচবিহারদার্জিলিং পাহাড়, কোচবিহারপ্রদীপ ভান্ডারি (সর্বভারতীয় মুখপাত্র), কৈলাস চৌধুরী (প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী)পাহাড়ি রাজনীতির জটিল সমীকরণ সামলানো ও কোচবিহারে সংগঠন মজবুত করা।

যেসব নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাঁদের অনেকে ইতিমধ্যেই জেলায় পৌঁছে কাজ শুরু করেছেন। জানা গিয়েছে, নির্বাচনের আগে পর্যন্ত তাঁরা ওই এলাকাগুলোতে ঘাঁটি গেড়ে থেকেই সরাসরি বুথভিত্তিক সংগঠন মজবুত করার কাজে নজর দেবেন।