“গরমে ১,৩০০ মৃত্যু”-৪১.৫ ডিগ্রিতে পুড়ছে ইউরোপ! অ্যালার্ট জারি করলো WHO

প্রখর সূর্যের তাপে কার্যত জ্বলছে ইউরোপ। গত ২১ জুন থেকে শুরু হওয়া ভয়াবহ তাপপ্রবাহে মহাদেশজুড়ে প্রাণহানির সংখ্যা ১৩০০ ছাড়িয়েছে। গত কয়েক দিনে শুধুমাত্র ফ্রান্সেই প্রায় ১০০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তীব্র গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় জরুরি অবস্থা জারি করেছে একাধিক দেশ। পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)।
ফ্রান্সের উদ্বেগজনক চিত্র সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ফ্রান্সে। দেশটির সরকারি স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, গত তিন দিনে অতিরিক্ত মৃত্যুর হার অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণত দৈনিক যে সংখ্যক মৃত্যু হয়, তাপপ্রবাহের সময় তা ১৪০০ ছাড়িয়ে গেছে। মৃতদের মধ্যে ৮৫ শতাংশেরই বয়স ৬৫ বছরের বেশি। মূলত ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি থাকা অঞ্চলগুলোতেই প্রাণহানির ঘটনা বেশি।
জার্মানিতে ভাঙল তাপমাত্রার রেকর্ড তাপপ্রবাহের জেরে জার্মানি রেকর্ড করেছে ৪১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। বার্লিনের পরিস্থিতি এতটাই করুণ যে, সেখানে অ্যাম্বুল্যান্সের চাহিদা ৫০০ শতাংশ বেড়ে গেছে। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশকে জলকামান ব্যবহার করে জনতাকে ঠান্ডা রাখতে হচ্ছে। প্রবল গরমে রেললাইন বেঁকে যাওয়া এবং রাস্তার কংক্রিট ফেটে যাওয়ায় বড় ধরনের পরিবহণ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এমনকি, হামবুর্গ থেকে প্রাগগামী একটি ট্রেনে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জেরে ৬০০ যাত্রীকে আটকা পড়ে উদ্ধার হতে হয়েছে। দাবানলও ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন এলাকায়, তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবিস্ফোরিত বারুদ ছড়িয়ে থাকায় আগুন নেভাতে হিমশিম খাচ্ছে দমকল বাহিনী।
WHO-এর সতর্কবার্তা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস জানিয়েছেন, প্রায় ১৫ কোটি মানুষ বর্তমানে এই অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহের কবলে। তিনি আরও বলেন, “আগে এই ধরণের আবহাওয়া বিরল ছিল, এখন তা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।” ইউরোপের ঘরবাড়ি বা কর্মক্ষেত্রগুলো এই তীব্র গরম সহ্য করার মতো করে তৈরি নয়, তাই প্রতিটি দেশকে দ্রুত ‘হিট হেলথ অ্যাকশন প্ল্যান’ বা তাপজনিত স্বাস্থ্য মোকাবিলায় বিশেষ কর্মপরিকল্পনা তৈরির আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
জলবায়ু পরিবর্তনের অভিশাপ ‘ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন’-এর বিজ্ঞানীদের মতে, এই ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য সরাসরি মানুষের কর্মকাণ্ডই দায়ী। অতিরিক্ত দূষণ ও প্রকৃতির ওপর হস্তক্ষেপের ফলেই জলবায়ু আজ চরম রূপ নিয়েছে। সুইডেনে বজ্রপাত ও ডেনমার্কে প্রবল বজ্রঝড়—সব মিলিয়ে প্রকৃতির এই রোষ থেকে রেহাই নেই ইউরোপের।